• ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৫ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

জোরপূর্বক চাকুরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারিদের চাকুরিতে পুনর্বহালের এক দফা দাবিতে এফবিসিসিআই ভবন ঘেরাও এবং অবস্থান কর্মসূচি চলছে

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ৫, ২০২৪
জোরপূর্বক চাকুরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারিদের চাকুরিতে পুনর্বহালের এক দফা দাবিতে এফবিসিসিআই ভবন ঘেরাও এবং অবস্থান কর্মসূচি চলছে

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) থেকে অবৈধভাবে ও জোরপূর্বক চাকুরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারিরা তাদেরকে চাকুরিতে পুনর্বহালের এক দফা দাবিতে আজ (০৫/১০/২০২৪) সকাল থেকে এফবিসিসিআই ভবন ঘেরাও এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। সকাল ১১ টায় তুমুল বৃষ্টির মধ্যে রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই ভবনের সামনে তাদের কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন এফবিসিসিআই দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে যে বহুমুখী ভূমিকা পালন করে তাতে সার্বিকভাবে সহযোগিতার জন্য এফবিসিসিআইয়ের একটি দক্ষ সচিবালয় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিল। কিন্তু ২০১৯-২০২১ মেয়াদকালের পরিচালনা পর্ষদে এফবিসিসিআই-এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শেখ ফজলে ফাহিম ২০২০ সালে দেশে করোনা মহামারির সংকটময় মুহুর্তে সম্পূর্ণ দলীয় কারণে ৬২ জন কর্মকর্তা- কর্মচারিকে এফবিসিসিআইয়ের চাকুরি থেকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করেন; পরবর্তীতে তাদের মধ্য থেকে তাঁর আজ্ঞাবহ ও দুর্নীতিগ্রস্ত কতিপয় কর্মকর্তা/কর্মচারিকে চাকুরিতে পুনঃবহাল করলেও ২৫ জনকে বিএনপি-জামায়াত তকমা দিয়ে পুনঃবহাল করা হয়নি। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস রুলস-১৯৯০ অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য সার্ভিস বেনিফিট থেকে নির্দয়ভাবে বঞ্চিত করেন। এ অন্যায় পদক্ষেপ এর বিরুদ্ধে কোনরকম আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার বিষয়েও তিনি এবং পরবর্তী প্রেসিডেন্ট মোঃ জসিম উদ্দিন এবং সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আমিন হেলালী নানাভাবে হুমকি প্রদান করেন। ফলশ্রুতিতে কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দ তাদের জীবনের নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে মতিঝিল থানায় জিডি দায়ের করতে বাধ্য হন।
সদ্যবিদায়ী প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম এই ২৫ জন বঞ্চিত কর্মকর্তা/কর্মচারিকে পূর্ণাঙ্গ পাওনা পরিশোধ ও মুকরিতে পুনর্বহালের আশ্বাস দিলেও আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি।

কর্তৃপক্ষের চরম নিপীড়ন, অবৈধভাবে চাকুরিচ্যুতি এবং পাওনা বেতন-ভাতাদি সম্পূর্ণরূপে না পাওয়ায় মানসিক যন্ত্রণা ও আর্থিক অনটনে ইতিমধ্যে এফবিসিসিআইয়ের কর্মকর্তা এ.এফ.আইনুল হুদা, ড্রাইভার মোঃ ফজলুল হক এবং সিকিউরিটি গার্ড আব্দুল বারেক হার্ট এ্যাটাকে মৃত্যুবরণ করেছেন। অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারি পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

চাকুরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দ বিভিন্ন সময়ে তাদের সমস্যা নিরসনের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের সচিব বরাবর আবেদন করেছেন। সম্প্রতি অন্তর্বর্তিকালীন সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্যান্য উপদেষ্টাগণের দৃষ্টি আকর্ষন করেও স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছে।

এ অবস্থায়, এফবিসিসিআইয়ের চাকুরিচ্যুত ২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি তাদের উপর অন্যায় ও অমানবিক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং অবিলম্বে তাদেরকে জ্যেষ্ঠতা (সিনিয়রিটি) ও পদোন্নতিসহ চাকুরিতে স্ব স্ব পদে পুনর্বহাল এবং এফবিসিসিআই সার্ভিস রুলস-১৯৯০ অনুযায়ী প্রাপ্য সার্ভিস বেনিফিট ও অন্যান্য বকেয়া পাওনাদি পরিশোধের জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য এফবিসিসিআই ভবন ঘেরাও এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে।

এফবিসিসিআই-এ বর্তমানে দায়িত্ব পালনরত প্রশাসক-এর সাথে কার্যকর আলোচনা সাপেক্ষে তাদের ঘেরাও এবং অবস্থান কর্মসূচি শেষ হবে।