আগারগাঁওয়ে ‘বাংলা সোলার এক্সপো ২০২৬’: সৌরশক্তিতেই দেশের সমৃদ্ধির নতুন আলো
আগারগাঁওয়ে ‘বাংলা সোলার এক্সপো ২০২৬’: সৌরশক্তিতেই দেশের সমৃদ্ধির নতুন আলো
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ৪, ২০২৬
রাজীব দে:
৩-৪ নভেম্বর আগারগাঁওয়ে দুদিনব্যাপী ‘বাংলা সোলার এক্সপো ২০২৬’ অনুষ্ঠিত: সোলার শক্তিতে আশার আলো দেখছে দেশ
রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং ইডকলের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো দুদিনব্যাপী ‘বাংলা সোলার এক্সপো ২০২৬’। মেলায় সোলার প্রযুক্তির বিভিন্ন উদ্ভাবন ও আধুনিক সুবিধা নিয়ে দর্শনার্থীদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছে দেশীয় সৌরবিদ্যুৎ খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান এসকিউ পাওয়ারিং সোলার (এসকিউ টেকনোলজিস লিমিটেড)।
এক্সপো চলাকালীন এক সাক্ষাৎকারে প্রতিষ্ঠানটির ডিরেক্টর অফ অপারেশনস আসাদুল্লাহ আহমেদ মেলা আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, “সরকারি ব্যবস্থাপনায় পাওয়ার ডিভিশন ও ইডকলের এই যৌথ আয়োজন অত্যন্ত চমৎকার ও অভিভূত করার মতো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের স্টল পরিদর্শন করে আমাদের কাজের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং উৎসাহিত করেছেন।”
তিনি আরও জানান, সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টের যন্ত্রাংশের ওপর সম্প্রতি সরকারের ঘোষিত ১% শুল্ক (ডিউটি) সুবিধা এবং নোট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ কিনে নেওয়ার উদ্যোগ সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিরাট ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে প্রসেসিং খরচ পড়ে মাত্র ৩.৫০ থেকে ৪ টাকা, যেখানে ডিজেল বা অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানিতে এ খরচ ১২ থেকে ১৩ টাকারও বেশি। এর ফলে সৌরবিদ্যুতের ব্যাপক প্রসার দেশের জ্বালানি খাতের ওপর চাপ কমাবে এবং মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে।
বিগত ১১ বছরের সাফল্য তুলে ধরে তিনি জানান, “এসকিউ টেকনোলজিস এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪১২ মেগাওয়াট ক্ষমতার সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে। যা থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৫ লাখ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে এবং ৭ লাখ ৫২ হাজার মেট্রিক টন কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে। গত জুন মাসে হস্তান্তর করা ২৯ মেগাওয়াটের প্রজেক্ট থেকে প্রতিদিন ২০ মেগাওয়াট এসি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে (আরইবি) যুক্ত হচ্ছে।”
বাজারে প্রতিষ্ঠানের একচ্ছত্র অবস্থানের কারণ হিসেবে তিনি সর্বাধুনিক টেকনোলজিক্যাল নো-হাউ, যথাযথ আর্থিক ও পে-ব্যাক ক্যালকুলেশন এবং সর্বোচ্চ গ্রাহক আস্থার কথা উল্লেখ করেন। বর্তমানে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউনিলিভার, আকিজ গ্রুপ, বিআরবি ক্যাবলস ও ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপগুলো এসকিউ পাওয়ারিং সোলারের অন্যতম প্রধান ক্লায়েন্ট।
মেলার মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি দেশের বিদ্যমান বিদ্যুৎ সমস্যা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।