বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ পূর্ণ ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভা এবং ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একইসঙ্গে নিম্নোক্ত নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে-
১. পূজার আয়োজন ও উদযাপনে স্থানীয় প্রশাসন, সমস্ত রাজনৈতিক দল, সেনাবাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং ছাত্র নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
২. দুর্গত এলাকায় পুজোর আয়োজন স্থানীয় সংশ্লিষ্ট সবার সাথে আলোচনা করে আয়োজকরা স্থির করবেন।
৩. মহালয়া অনুষ্ঠান সাত্ত্বিকভাবে এবং যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রেখে আয়োজন করতে হবে।
৪. প্রতিমা নির্মাণসহ পূজায় সাত্ত্বিক পরিবেশ সুনিশ্চিত করতে হবে।
৫. প্রতিমা তৈরী থেকে পূজা সমাপ্তি পর্যন্ত প্রতিটি পূজা মন্দির/মণ্ডপে স্ব উদ্যোগে নিরাপত্তা নিশ্চিত কল্পে সংশ্লিষ্ট মন্দির/মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা সদস্যদের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
৬. মন্দির/মণ্ডপে যোগাযোগের মুখ্য নেতৃত্ব নির্বাচন এবং তার/তাদের মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট থানায় সরবরাহ করতে হবে।
৭. পূজামন্ডপের নিরাপত্তা তদারকির জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের নাম-ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ইত্যাদি তথ্য দায়িত্ব কটন রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ থাকতে হবে; স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা এবং ফোন নম্বর সংশ্লিষ্ট থানায় এবং ফাঁড়িতে প্রেরণ করতে হবে: স্বেচ্ছাসেবকদের ছবিযুক্ত দৃশ্যমান পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা করতে হবে:
৮. প্রতিমা নির্মাণস্থান ও পূজামন্ডপে স্বেচ্ছাসেবক দ্বারা দিনরাত পাহারার ব্যবস্থা করতে হবে;
৯. পূজা মন্দির/মণ্ডপে নারী ও পুরুষের পৃথক যাতায়াত ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং শৃংখলা রক্ষার জন্য নিজস্ব নারী/পুরুষ স্বেচ্ছাসেবক রাখতে হবে।
১০. সন্দেহভাজন দর্শনার্থীদের দেহ তল্লাশীর ব্যবস্থা রাখিতে হবে। নারী স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে নারী দর্শনার্থীদের দেহ তল্লাশীর ব্যবস্থা রাখতে হবে।
১১. মন্দির/মণ্ডপে সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষার্থে আর্থিক সংগতি সাপেক্ষে সিসি ক্যামেরা সংযোগের ব্যবস্থা করতে হবে।
১২. মণ্ডপ/মন্দির সংলগ্ন এলাকায় এবং বিসর্জন স্থলে পর্যাপ্ত আলোর (জেনারেটরসহ জরুরী বিদ্যুৎ সরবরাহ যন্ত্র) এবং অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা রাখতে হবে।
১৩. বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে উন্নতমানের বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করতে হবে।
১৪. যেসব ক্ষেত্রে খোলা জায়গায় অস্থায়ী প্যান্ডেলে দুর্গাপূজা করা হবে সে সকল ক্ষেত্রে সরকার নির্দেশিত বিধি- বিধান মেনে সকলের সাথে সমন্বয় করে পূজা আয়োজনের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিমা নির্ধারিত দিনেই বিসর্জন দিতে হবে।
১৫. গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে যে কোন দুর্ঘটনার সংবাদ তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলে জানাতে হবে। প্রয়োজনে ‘৯৯৯’ নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে।
১৬. দেশী-বিদেশী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির পুজো মণ্ডপ পরিদর্শনের কোন সূচি জানা মাত্র সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করতে হবে। এই ব্যাপারে রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে হবে।
১৭. ইভ টিজিং, ছিনতাই ইত্যাদিতে কেউ জড়িত হলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করতে হবে।
১৮. যানবাহন চলাচল ও দর্শনার্থী চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হবে এমন স্থানে পূজাকালীন সময়ে কোন দোকানপাট বরাদ্দ দেয়া যাবে না।
১৯. দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রশাসনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে হবে এবং যেকোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা তাৎক্ষণিক প্রশাসন ও পুলিশকে অবহিত করতে হবে;
২০. উচ্চ শব্দের মাইক/পিএসেট ও আতসবাজি/পটকার ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। ভক্তিমূলক/ধর্মীয়
সংগীত ব্যতীত অন্য কোন গান বাজানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
২১.কারো ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে এরূপ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে।
২২. ১৩ অক্টোবর ২০২৪ যথা নিয়মে প্রতিমা নিরঞ্জন হবে এবং প্রতিমা নিরঞ্জন শোভাযাত্রায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে হবে। সন্ধ্যার মধ্যে বিসর্জন সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।