• ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

রাজধানীতে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শনী ২০২৪।

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত এপ্রিল ২৫, ২০২৪
রাজধানীতে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শনী ২০২৪।

ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা, জোয়ার সাহারা, ঢাকায় অনুষ্ঠানরত ২৫-২৭ এপ্রিল ২০২৪ মেয়াদে তিনদিন ব্যাপী এ বছরের মেলায় ১৪টি দেশের (ভারত, চীন, জাপান, তুরস্ক, সার্বিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানী, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ) প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ), বগুড়া ও লিমরা ট্রেড ফেয়ার এন্ড এক্সিবিশনস লিঃ এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক মেলায় কৃষি প্রযুক্তি সংক্রান্ত গবেষক, উদ্যোক্তা, উৎপাদনকারী, আমদানীকারক, ব্যবহারকারী এবং সাধারণ কৃষক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করছেন।

গতকাল ২৫ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি। বিশেষ অতিথি জনাব মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ এমপি, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব মোসাম্মাৎ হামিদা বেগম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমীর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জনাব মোঃ খুরশীদ ইকবাল রেজভী এবং লিমরার চেয়ারম্যান জনাব কাজী ছারোয়ার উদ্দিন, প্রমুখ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তৃতায় দেশের কৃষি উন্নয়নে এ ধরনের কৃষি প্রযুক্তি নির্ভর মেলা আয়োজনে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি হল কৃষিখাত। দেশকে উন্নতির শিখরে এগিয়ে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া এবং উত্তরোত্তর উন্নতি করার বিকল্প নেই। বাংলাদেশের সংকটকালীন অবস্থায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষিকে প্রাধান্য দিয়ে বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীকালে এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে।

কৃষির উন্নয়নকল্পে কৃষি সম্পর্কিত আধুনিক জ্ঞান, কৃষি যান্ত্রিকীকরণে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে কৃষি প্রযুক্তি মেলার গুরুত্ব অপরিসীম। আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলায় বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশে ৫৫০টি স্টল এ মোট ২৫০ টি প্রতিষ্ঠান এবং কোম্পানি অংশগ্রহণ করেছে। ফলে এ ধরণের আয়োজন অব্যাহত থাকলে দেশি-বিদেশি উন্নত ও উৎপাদন সহায়ক প্রযুক্তি এবং মেশিনারীজ উদ্যোক্তা, উৎপাদক, আমদানীকারক, গবেষক ও কৃষকদের মধ্যে উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে এবং সকল সরকারি/বেসকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় সাধিত হবে।

তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে কৃষি ও কৃষককূলের উন্নয়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে বিভিন্ন কর্মসূচী। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং ২০৪১ সালের উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাড় বায়নে কৃষি এবং কৃষি সংশি-ষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তি, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বীজ উৎপাদন ও ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বাংলাদেশের পলী জনপদের দারিদ্র্য বিমোচনের প্রধান ক্ষেত্র হল কৃষি উন্নয়ন। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে কৃষিক্ষেত্রে প্রকৃতি নির্ভরতা হ্রাস এবং গ্রামীণ মানুষের মাঝে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে কৃষি ক্ষেত্রে নিয়োজিত অমানবিক পরিশ্রম হ্রাস, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সুসংহত করতে সহায়ক হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী শেখ হাসিনা এ জাতীয় উদ্যোগকে সর্বদাই স্বাগত জানান ও উৎসাহিত করেন। এসকল কর্মকান্ড সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৪ কৃষি আধুনিকীকরণ ও যান্ত্রিকীকরণে বিনিয়োগ বৃদ্ধির অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে।

আন্তর্জাতিক এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি সরবরাহকারী, ব্যবহারকারী, গবেষক এবং প্রস্তুতকারকদের মধ্যে পারস্পরিক তথ্য এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে যা দেশের কৃষি প্রযুক্তি খাতকে সমৃদ্ধ করবে।

১২তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলায় বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি Sustainable Agricultural Mechanization in Bangladesh: Challenges and Opportunities বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোঃ মঞ্জুরুল আলম।