স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, অন্য সকল উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে। একই সাথে তাঁদের স্বামী/স্ত্রীর সম্পদের হিসাবও জনসমক্ষে আনা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সম্পদ বিবরণী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
সময়কাল: প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, উপদেষ্টাগণ এবং তাঁদের স্বামী/স্ত্রীর ৩০ জুন ২০২৪ এবং ৩০ জুন ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত অর্জিত সম্পদের হিসাব বিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আইনি ভিত্তি: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর জারি করা নীতিমালার আলোকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আওতা: প্রধান উপদেষ্টা, সরকারের সকল উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টা পদমর্যাদার ব্যক্তিবর্গ এই স্বচ্ছতা প্রক্রিয়ার আওতায় এসেছেন।
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন:
“বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছে। আমাদের সব উপদেষ্টা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করবেন। পর্যায়ক্রমে এটি সব সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করা হবে।”
আজকের এই সম্পদ বিবরণী প্রকাশের মাধ্যমে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে স্বচ্ছতার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলো।
সরকার দুর্নীতির মূলোৎপাটনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর এখন পর্যায়ক্রমে সকল সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য সম্পদ বিবরণী দাখিল নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক করার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কার এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক স্থাপিত হলো।