১| এলিট ফোর্স হিসেবে র্যাব আত্মপ্রকাশের সূচনালগ্ন থেকেই আইনের শাসন সমুন্নত রেখে দেশের সকল নাগরিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে অপরাধ চিহ্নিতকরণ, প্রতিরোধ, শান্তি ও জনশৃংখলা রক্ষায় কাজ করে আসছে| র্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে মাদক কারবারি, অবৈধ অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, খুনী, ছিনতাইকারী, অপহরণ ও প্রতারকদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে|
২| এরই ধারাবাহিকতায়, র্যাব-৩ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া থানার চাঞ্চল্যকর ট্রিপল হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মোঃ ইদ্রিস শিকদার (৪৯)’ পিতাঃ মৃত ইয়াছিন শিকদার, সাং-মহিষকান্দি, থানাঃ কাঠালিয়া, জেলাঃ ঝালকাঠি’কে ঢাকা মহানগরীর সবুজবাগ থানাধীন রাজারবাগ শাপলাকানন, মাদারটেক সবুজবাগ বাসা নং-১১১ জনৈক মোসাঃ জাহানারা বেগম এর টিনশেড বাড়ীর ভাড়াটিয়া রুমের নিচতলা হতে ১৮ জুন ২০২৬ তারিখ ১৪৩০ ঘটিকায় মামলার রজুর ১৮ (আঠার) বছর পর গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৩|
৩| প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে জানা যায় যে, ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া থানার মহিষকান্দি গ্রামে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভিকটিম মানিক শিকদার এর সাথে ধৃত আসামি ইদ্রিস শিকদার ও তার আপন ভাই কুদ্দুস শিকদারের মাঝে বিরোধ চলে আসছিল| ধৃত আসামি ও তার আপন ভাই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে খুন ও জখম করার সুযোগ খুঁজিতে থাকে| গত ২৭ জুলাই ২০০৮ তারিখ দিবাগতরাত্রি আনুমানিক ২০৩০ ঘটিকার সময় ধৃত আসামি ও তার ভাই মিলে দেশীয় অস্ত্র দা দিয়ে ইদ্রিস শিকদারের ০৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শেফালী বেগম ও আপন বড় ভাই মানিক শিকদারকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে| ভিকটিম ও তার বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের শরীরে এলোপাথারি কিল, ঘুষি, লাথিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের মাধ্যমে গুরুতর জখম করে| এক পর্যায়ে ভিকটিম মানিক শিকদার ও শেফালী বেগম অচেতন হয়ে পরে| পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিবার ভিকটিমদের ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিকটিমদের বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করে| এ ঘটনায় ধৃত আসামি নিজেই বাদী হয়ে কাঠালিয়া থানায় ভিকটিমের পরিবারকে ফাসানোর জন্য ভূয়া হত্যা মামলা করে| উক্ত ঘটনা কাঠালিয়া থানা পুলিশ তদন্ত শেষে ভূয়া মামলা প্রশাণিত হওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে ধৃত আসামিকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন| ধৃত আসামির বিরুদ্ধে ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া থানার জিআর মামলা ৮৫/২০০৮, তারিখ ২৭ জুন ২০০৮ দঃ বিঃ ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়| উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে দায়রা জজ বিশেষ দায়রা জজ আদালত ঝালকাঠি কর্তৃক ধৃত ইদ্রিস শিকদার (৪৯)’কে যাবজ্জীবন সাজা প্রদান করা হয়| উল্লেখ্য যে, মামলা রুজু হওয়ার পর থেকে উক্ত আসামি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মবেশে পলাতক অবস্থায় নিজের নাম ও বেশভূষা পরিবর্তন করে জীবন যাপন করে আসছে| অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে|
৫| ধৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে|