বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশন আয়োজিত এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা ও তাঁর স্ত্রী মানু ভার্মার আমন্ত্রণে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, উচ্চপদস্থ সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তা, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্ব: হাই কমিশনার বাংলাদেশের জনগণের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দুই দেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধুত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে দুই দেশের যৌথ ত্যাগ এই সম্পর্কের এক অবিস্মরণীয় ভিত্তি।
পারস্পরিক সহযোগিতার মাইলফলক হিসেবে তিনি আন্তঃসীমান্ত ডিজেল পাইপলাইন এবং ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল ও ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এই প্রকল্পগুলো আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক এবং ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের সক্ষমতা বাড়াতে ভারতের সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দুই দেশের তরুণ ও উদ্ভাবনী জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে একটি যৌথ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম এবং সাশ্রয়ী জ্বালানি করিডোর গড়ার ওপর তিনি জোর দেন।
হাই কমিশনার বলেন, “ভারত ও বাংলাদেশ আজ একে অপরের টেকসই প্রবৃদ্ধির অনুঘটক। আমরা আমাদের ভৌগোলিক নৈকট্যকে নতুন সুযোগে রূপান্তরিত করার মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারি।”
বক্তব্যের শেষে তিনি ১৯৫০ সালে ভারতের সংবিধান প্রণয়ন এবং আধুনিক ও আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের বৈশ্বিক উত্তরণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন, যেখানে বাংলাদেশ এক গুরুত্বপূর্ণ সহযাত্রী হিসেবে বিদ্যমান।