শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, সারাবিশ্বে অনেক চীনা কোম্পানি ছড়িয়ে রয়েছে। তাদের প্রচুর দক্ষ কর্মী প্রয়োজন। সেই চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে আমাদেরকে প্রশিক্ষিত জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে।
আজ সচিবালয়ে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত চীন সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী একথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে চীনের সাম্প্রতিক সফরের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে গত ২৬-২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত এ সফরে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চীন সফরে আমরা দেখেছি তাদের ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লিংকেজ’ অত্যন্ত শক্তিশালী। আমরাও সেই মডেলটি অনুসরণ করতে চাই।
তিনি আরো বলেন, প্রবাসীরা এদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাই তাদেরকে আরো দক্ষ করে গড়ে তুলতে আমরা কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। দেশের জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। এজন্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বাজেটে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন ও কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মোঃ দাউদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
সফরকালে চীন–বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সমঝোতা স্মারক(MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সহযোগিতা কাঠামোর আওতায় উভয় পক্ষ কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, দ্বিভাষিক শিক্ষাসামগ্রী, শিক্ষা–শিল্প সংযোগ, গবেষণা কেন্দ্র, শিল্প প্রশিক্ষণ, চীন সফর, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করবে।
এছাড়াও এই সম্মেলনে তিনটি বড় সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করা হয়। সেগুলো হচ্ছে: চীন–বাংলাদেশ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং সেন্টার, বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন রিসার্চ সেন্টার, বাংলাদেশ “চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ+ স্কিল ডেভেলপমেন্ট” সহযোগিতা কেন্দ্র।
এই উদ্যোগগুলো বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা, ব্যবহারিক দক্ষতা, শিল্পের চাহিদা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের মধ্যে আরও দৃঢ় সংযোগ স্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।