• ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১লা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

মায়েদের হাতেই শিশুর পুষ্টি: শিগগিরই শুরু হচ্ছে রান্না করা মিড-ডে মিলের পাইলট প্রকল্প:প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ২৬, ২০২৬
মায়েদের হাতেই শিশুর পুষ্টি: শিগগিরই শুরু হচ্ছে রান্না করা মিড-ডে মিলের পাইলট প্রকল্প:প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে বাংলাদেশেও মায়েদের সম্পৃক্ততায় রান্না করা খাবার শিশুদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে খুব শিগগিরই রান্না করা খাবারের একটি পাইলট কার্যক্রম শুরু করা হবে। স্থানীয় বাজার থেকে শাকসবজি, ডিম, মাছসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে মায়েদের দায়িত্বে রান্না ও সরবরাহের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালনার সম্ভাব্য মডেলগুলো পরীক্ষা করা হবে। তিনি বলেন, পদ্ধতি একাধিক হতে পারে, তবে সরকারের মূল লক্ষ্য একটাই প্রতিটি শিশুর কাছে সঠিক সময়ে নিরাপদ, মানসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া।

আজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহীদ সাটু হলে আয়োজিত ‘’সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্প সম্পর্কে প্রধান শিক্ষকগণের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিড-ডে মিল কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন,মাদারস কমিটির কার্যকর নজরদারির ফলে মিড-ডে মিল প্রকল্পে অনিয়ম ও বিভিন্ন অভিযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। স্থানীয় পর্যায়ে মায়েদের সরাসরি সম্পৃক্ততা খাবারের মান, সরবরাহ ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে। তিনি বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে মাদারস কমিটিকে আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খাবারের গুণগত মান, গন্ধ, স্বাদ ও সরবরাহে কোনো অসঙ্গতি দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। মায়েদের এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে মিড-ডে মিল প্রকল্প আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও শিশুদের জন্য নিরাপদ হয়ে উঠছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দুটি প্রধান লক্ষ্য হলো,কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না এবং প্রত্যেক শিশুকে মানসম্মত শিক্ষা দিতে হবে। এই দুটি লক্ষ্য বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব মাঠপর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শ্রেণি কার্যক্রম, শেখার অগ্রগতি এবং শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে প্রশিক্ষণ নিতে না হয় এবং এর ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট তৈরি না হয়। পাশাপাশি মূল্যায়নভিত্তিক পদোন্নতি, নতুন বদলি নীতি এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ভিত্তিক দুর্গম ভাতা প্রদানের বিষয়েও নতুন নীতিমালায় ব্যবস্থা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষক সংকট নিরসনে শূন্য পদ পূরণ, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিশ্চিত করার কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোতে নাইটগার্ড ও এমএলএসএসসহ প্রয়োজনীয় জনবল দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে যেসব বিদ্যালয় বারবার স্থান পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকে, সেসব এলাকায় স্থানান্তরযোগ্য অবকাঠামোর মডেল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত বিভিন্ন মডেল পর্যালোচনা করে তা সরকারি ব্যবস্থায় প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি:প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা সঠিক পথে এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শুধু একটি বিষয়ে পরিবর্তন আনলেই হবে না বরং পাঠ্যক্রমকে যুগোপযোগী করা, দক্ষ ও দায়িত্বশীল শিক্ষক নিশ্চিত করা, কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নত করা এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এ পাঁচটি ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে কাজ করাই হবে প্রাথমিক শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি।

অনুষ্ঠানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশীদ, ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930