• ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ (ART) চুক্তি স্বাক্ষরিত: দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে নতুন দিগন্তের সূচনা

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ (ART) চুক্তি স্বাক্ষরিত: দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে নতুন দিগন্তের সূচনা

বাংলাদেশ সরকার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আজ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঐতিহাসিক ‘অ্যগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ (ART) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত উচ্চ শুল্ক হ্রাসের লক্ষ্যে গত নয় মাস ধরে নিবিড় আলোচনা ও গঠনমূলক সংলাপের পর এই সফলতা অর্জিত হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) এবং ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে রেসিপ্রোকাল শুল্ক হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়ে এখন ১৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

চুক্তির একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাকের জন্য বিশেষ বিধান। বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই সুবিধা প্রদান করেছে। এর আওতায়: নির্দিষ্ট পরিমাণ বাংলাদেশি টেক্সটাইল ও পোশাক পণ্য শূন্য শুল্ক (Zero Tariff) সুবিধায় রপ্তানি করা যাবে।

এই সুবিধা পেতে মার্কিন উৎপাদিত তুলা বা কৃত্রিম তন্তু (Raw materials) ব্যবহারের শর্ত যুক্ত থাকবে।

এই বিশেষ সুবিধাটি অন্য কোনো দেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিতে সচরাচর দেখা যায় না।রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ ও অন্যান্য খাত পোশাক খাতের বাইরেও এই চুক্তি বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়িকে সমৃদ্ধ করবে। চুক্তির অধীনে বাংলাদেশের নির্বাচিত ফার্মাসিউটিক্যাল (ওষুধ) এবং কৃষি পণ্য মার্কিন বাজারে শুল্কমুক্ত (Duty-free) প্রবেশাধিকার পাবে।

ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশেষ নমনীয়তা অর্জন করেছে। তৃতীয় কোনো দেশের সাথে ডিজিটাল বাণিজ্য চুক্তি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পূর্ব-পরামর্শের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। এছাড়া, বাংলাদেশের উৎপাদন ক্ষমতা রক্ষার্থে ‘রুলস অব অরিজিন’ নির্ধারণে বাংলাদেশের সাথে আলোচনার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশও মার্কিন পণ্যের জন্য তাদের ট্যারিফ শিডিউলে বড় ধরনের বাজার সুবিধা প্রদান করেছে। এর মধ্যে ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে শুল্ক কমানোর (Staged tariff reductions) পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া শ্রম অধিকার, পরিবেশ রক্ষা, স্বচ্ছতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়েও উভয় দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চুক্তিতে একটি নির্দিষ্ট ‘টার্মিনেশন (Exit) ক্লজ’ যুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার এই চুক্তিকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, কৌশলগত এবং সুদূরপ্রসারী কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করছে। এটি কেবল বাজার সুবিধা বৃদ্ধি করবে না, বরং বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) উৎসাহিত করবে এবং বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930