হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গোৎসবের পূজামণ্ডপে সোনা মুজিবের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে চারিদিকে উঠে নিন্দার ঝড়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাজি মুজিবুর রহমান চৌধুরী প্রকাশ সোনা মুজিব শনিবার রাতে উপজেলার খাইছড়া চা বাগানে দুর্গামণ্ডপসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া ও হুমকিতে তাদের অনুসারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পূজামণ্ডপে সোনা মুজিবের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে চারিদিকে উঠে নিন্দার ঝড়।
বিএনপি নেতা সোনা মুজিবের এহেন হুমকির ঘটনায় চা বাগানের তিনজন চেয়ারম্যান রোববার সকালে সাবেক পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মহসিন মিয়া মধুর বাসভবনে জড়ো হয়ে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
সোনা মুজিবের ধর্মীয় উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদে রোববার দুপুরে সাবেক পৌর মেয়র তার নিজ বাসভবন মহসিন নিবাসে এক সংবাদ সম্মেলনে করেন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সোনা মুজিবের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করে বলেন, শ্রীমঙ্গল শান্তি ও সম্প্রীতির স্থান। এখানে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা আমরা কঠোর হস্তে প্রতিহত করতে বদ্ধপরিকর আমরা।
তিনি বলেন,জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার স্বৈরাচারী হাসিনার পতনের পর দেশে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ গণতান্ত্রিক সমমনা দল সমর্থিত সরকার এখন দেশে রয়েছে। দেশ ও সরকারকে অস্থিতিশীল করতে দেশ ও পাশের দেশ থেকে নানাবিধ ষড়যন্ত্র চলছে।
এসময় মহসিন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, হাজি মুজিব বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ভাঙিয়ে উপজেলার রাজঘাট ইউপি চেয়ারম্যান বিজয় বুনার্জী, কালীঘাট ইউপি চেয়ারম্যান প্রাণেশ গোয়ালা ও সাতগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান দেবাশীষ দেব রাখুর বিরুদ্ধে মামলার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখান। এতে বর্তমান দুর্গোৎসব চলাকালে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও চা বাগানের সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক, ভীতি ও অসন্তোষ বিরাজ করেছে। হাজি মুজিবের এহেন হুমকির কারণে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক লোকজন অভিযোগ নিয়ে এসেছেন। আমি একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে হাজি মুজিবের এহেন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।
তিনি বলেন, বিএনপি একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ দলের প্রতিষ্ঠাতা। তার হাত ধরে দলটিতে এ দেশের সব ধর্ম বর্ণ ও পেশার মানুষের সমাগম ঘটেছে। মহসিন মিয়া মধু হাজি মুজিবের এহেন অরাজনৈতিক সুলভ আচরণ ও সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ানোর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাজি মুজিবুর রহমান চৌধুরীর কাছে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন বলে মোবাইল ফোনের লাইন কেটে দেন তিনি।
এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান বলেন, তোমরাও জান আমরাও জানি হাজি মুজিব রাজনীতির ‘র’ বোঝেন না। তিনি কোনো রাজনীতিবিদ নয়, তার কথার কোনো স্টেশন নাই। পূজামণ্ডপে মুজিবের এমন ন্যক্কারজনক বক্তব্য প্রদান খুবই দুঃখজনক। আমি এটা নোটে নিলাম, সবকিছু জেনে কেন্দ্রীয় নেতাদের বিষয়টি অবহিত করব বলে জানান।বিএনপি’র দলীয় হাই কমান্ড সিদ্ধান্ত মোতাবেক ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।