• ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৬ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব মানব পাচার বিরোধী দিবস পালিত

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ৩০, ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব মানব পাচার বিরোধী দিবস পালিত

গণমাধ্যম ও সংস্কৃতি মানবপাচার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ও বাংলাদেশ আর্ট ক্রিটিসিজম ট্রাস্ট কর্তৃক বৃহস্পতিবার যৌথভাবে আয়োজিত ‘বিশ্ব মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে একটি সেমিনারে বক্তারা বলেন গণমাধ্যম ও সংস্কৃতি মানবপাচার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার থিয়েটারের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে মানবপাচার প্রতিরোধে গণমাধ্যম ও সংস্কৃতির ভূমিকা’ শির্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এমপি। সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপার্সন রেজাউল করিম সোহাগ।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে আমেরিকান দূতাবাস; ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস মিশন (আইজেএম), বাংলাদেশ ও মানবপাচার রোধে ৩০ টি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে গঠিত ‘কোটনেট’ প্রতিনিধিবৃন্দ। সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক, লেখক, শিল্পী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দসহ অনেকে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আর্ট ক্রিটিসিজম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান এবং শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি মো. মানজুর হোছাঈন মাহি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ আর্ট ক্রিটিসিজম ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক রতন মালো।

সেমিনারের শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ কথক বিশ্বাস জয়ের নেতৃত্বে মানব পাচার বিষয়ে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী গম্ভীরা গান পরিবেশনা করেন। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক শিল্পী এস এম রকিবুল হাসান বাঁশি বাজিয়ে মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের দুর্দশার চিত্র ফুটিয়ে তোলেন সুরে।

সেমিনারের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা, অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, “মানব পাচারের মতন জঘন্য অপরাধ দমনে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড করা দরকার। যদিও আমাদের দেশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কমে গেছে। যে কারণে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে।”

তিনি আরো বলেন, “মানব পাচার প্রতিরোধে সমাজে আইনের শাসন প্রয়োজন। অন্যদিকে শিক্ষার বিকাশও প্রয়োজন। জাতিকে একটি গড় শিক্ষার ওপর দাঁড় করাতে হবে। যাতে তৃণমূলে নিরক্ষর যে মানুষটি সেও স্থানীয় প্রসাশন বা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে পারে । সে যাতে প্রতারণা, শোষণ, সহিংসতা ও মানব পাচারের শিকার হয়।”

বিশেষ অতিথি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন, এমপি, বলেন, “মানব পাচার প্রতিরোধে সাংবাদিকগণও ভূমিকা রাখতে পারে। মানব পাচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বিষয়ের ওপর তথ্যপ্রমাণ, উপাত্তসহ ইনডেপথ সংবাদ করা যেতে পারে।”

তিনি মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও সেবা প্রদানে দেশে-বিদেশের বিভিন্ন সংস্থার সাথে সমন্বয় করে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন।

সেমিনারের প্রধান বক্তা অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগ বাংলাদেশ ও বিশ্বের মানব পাচারের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি আন্ত-দেশীয় মানব পাচারের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরের মানব পাচার, জোরপূর্বক শ্রম বিষয়েও আলোকপাত করেন।

শিশুর প্রতি বানিজ্যিক যৌন শোষণকেও তিনি মানব পাচার অপরাধের আরেকটি রূপ হিসেবে তুলে ধরেন এবং সেটি প্রতিরোধেও ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেন।

প্রধান বক্তা বাংলাদেশে সাম্প্রতিক পুনঃপ্রণয়ন করা ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০২৬’ এর কার্যকর বাস্তবায়নের গুরুত্বও তুলে ধরেন।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ আর্ট ক্রিটিসিজম ট্রাস্টের চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে বলেন, “একটি পরিবারের একজন মানুষ পাচার হওয়া মানে সেই মানুষের জ্ঞান, দক্ষতা, ও সেই সমাজের সংস্কৃতিও পাচার হওয়া। বাংলাদেশ আর্ট ক্রিটিসিজম ট্রাস্ট বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকার রাখবে।”
বিশ্বব্যাপী এবছর মানব পাচার বিরোধী দিবসের প্রতিপাদ্য হিসেবে বেছে নেয়া হয় ‘Trapped Behind the Scam’ বা ‘প্রতারণার আড়ালের ফাঁদ’। মূলত অনলাইন প্রতারণার আড়ালে মানবিক সংকট ও সাইবার দাসত্বকে তুলে ধরতেই এ বছর এই প্রতিপাদ্য বেছে নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ আর্ট ক্রিটিসিজম ট্রাস্ট একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান যেটি বাংলাদেশে শিল্প, সংস্কৃতি, গণমাধ্যম এবং সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ে আলোচনা, সেমিনার, গবেষণা, আর্ট কর্মশালা, প্রদর্শনী, প্রকাশনা, অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে কাজ করে।

তাছাড়া সংগঠনটি দেশি-বিদেশী শিল্পকর্ম নিয়ে আলোচনা, বিষয়-ভিত্তিক আর্ট ওয়ার্কশপ, প্রদর্শনী, শিল্পীদের প্রণোদনা, সহায়তাও দিয়ে থাকে।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের একটি পেশাদার সংগঠন, যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের সাংবাদিকদের প্রতিনিধিত্ব করে। সংগঠনটি নৈতিক সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি ও জাতীয় বিষয়াবলির সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্য প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।