• ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

ঢাকায় গ্লোবাল বাংলাদেশি অ্যালায়েন্স (GBA)-এর উচ্চপর্যায়ের ‘পলিসি ডায়ালগ’ অনুষ্ঠিত: প্রবাসীদের দক্ষতাকে কাজে লাগানোর আহ্বান

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত জানুয়ারি ১২, ২০২৬
ঢাকায় গ্লোবাল বাংলাদেশি অ্যালায়েন্স (GBA)-এর উচ্চপর্যায়ের ‘পলিসি ডায়ালগ’ অনুষ্ঠিত: প্রবাসীদের দক্ষতাকে কাজে লাগানোর আহ্বান

গুলশানে গ্লোবাল বাংলাদেশি অ্যালায়েন্স (GBA)-এর উদ্যোগে উচ্চপর্যায়ের ‘পলিসি ডায়ালগ’ অনুষ্ঠিত

রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী হোটেল বেঙ্গল ব্লুবেরিতে গ্লোবাল বাংলাদেশি অ্যালায়েন্স (GBA)-এর উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘ক্লোজড-ডোর পলিসি ডায়ালগ’ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সেমিনারে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রবাসী বাংলাদেশি নীতিবিদ, গবেষক, পেশাজীবী, প্রযুক্তিবিদ এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ড. আবদুল মঈন খান। সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন দেশ ও বিদেশে পরিচিত প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মাহিদুর রহমান। অনুষ্ঠানের কি-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিবিদ ও GBA-এর কো-চেয়ারম্যান জনাব মিজান চৌধুরী। তিনি সংগঠনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে GBA-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আহমেদ সোহেল জানান, গ্লোবাল বাংলাদেশি অ্যালায়েন্স একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক, অরাজনৈতিক ও গবেষণাধর্মী সংগঠন। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মিজান চৌধুরী, কাওসার চৌধুরী, মোহাম্মদ এ. সালেহ, ড. গোলাম রব্বানীসহ একদল বাংলাদেশি-আমেরিকান আইটি ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের উদ্যোগে এই সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়।

GBA-এর প্রধান সমন্বয়কারী ও স্কুল অব লিডারশিপ (SOLE-USA)-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ডক্টর নয়ন বাংগালি তার উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, বিশ্ব দরবারে কানেক্টিভিটি কেবল রাজনীতিকরাই করেন না, বরং প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিরাই সম্পর্কের প্রকৃত সেতুবন্ধন গড়ে তোলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, “বাংলাদেশ আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। টেকসই উন্নয়ন, শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়নে সুপরিকল্পিত নীতি প্রয়োজন।” সম্মেলনের সভাপতি মাহিদুর রহমান তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, এই পলিসি ডায়ালগ কোনো রাজনৈতিক প্রচারণার মঞ্চ নয়, বরং এটি একটি দায়িত্বশীল, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী আলোচনার প্ল্যাটফর্ম।

সেমিনারে অ্যামাজন ইকোনমি, কর্মসংস্থান উন্নয়ন, ইউএস-বাংলাদেশ ককাস, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও বৈশ্বিক আউটসোর্সিং বিষয়ে একাধিক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেল সেশনগুলোর নেতৃত্ব দেন GBA-এর কো-চেয়ারম্যান কাওসার চৌধুরী। তাকে সহযোগিতা করেন মুহাম্মদ ফয়েজ কাউছার ও সরকার জিয়া উদ্দিন আহাম্মদ। প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আহমেদ সোহেল, নাভিদ, মো. মনিরুজ্জামান এবং মুনাফ। তাঁরা প্রবাসী অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে মডারেট করেন অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম মুনির এবং বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ মজলিস। আয়োজনে স্কুল অব লিডারশিপ (SOLE USA) ও স্পীহা বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন-এর সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

আয়োজকরা পুনর্ব্যক্ত করেন যে, GBA একটি অরাজনৈতিক ও নন-পার্টিজান সংগঠন। এই সংলাপটি সম্পূর্ণ তথ্যভিত্তিক ও নীতিকেন্দ্রিক এবং এতে কোনো রাজনৈতিক লবিং নেই। অনুষ্ঠান শেষে প্রবাসীদের সঙ্গে দেশের নীতিনির্ধারকদের গঠনমূলক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।