২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ৭ বিলিয়ন ডলারের অলংকার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা বাজুসের
২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ৭ বিলিয়ন ডলারের অলংকার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা বাজুসের
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ২৩, ২০২৬
জুয়েলারি খাতকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে রূপান্তরের পরিকল্পনা
ঢাকা, ২২ আগস্ট ২০২৬: ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হলো ‘বাজুস জুয়েলারি ফ্যাশন কার্নিভাল-২০২৬’। অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)-এর সম্মানিত প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান দেশীয় জুয়েলারি শিল্পকে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও রপ্তানিমুখী খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে নীতিগত সংস্কার ও রূপরেখা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদউদ্দীন চৌধুরী এনি, মাননীয় মন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়; এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব আব্দুর রহমান খান এফসিএসএম; বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং কূটনীতিকরা।
বক্তব্যে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার প্রতিষ্ঠান ও ৮ লাখ কারিগর জুয়েলারি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৮ লাখ মানুষের জীবিকা এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর ও ভ্যাটে রেয়াতি সুবিধা প্রদান করায় প্রধানমন্ত্রীকে বাজুসের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
বাজুসের পক্ষ থেকে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ সংস্কারের পাশাপাশি দেশের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ জুয়েলারি রপ্তানি বৃদ্ধি করা। বর্তমানে নীতিমালার অস্পষ্টতা ও আমদানি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে স্থানীয় বাজারে বিদেশি অলংকারের তুলনায় দেশীয় অলংকারের উৎপাদন ব্যয় বেশি পড়ে। এ কারণে বাস্তবসম্মত ও বৈষম্যহীন নীতিমালার মাধ্যমে আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানানো হয়।
‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬’ বাস্তবায়ন করা হলে সরকার এই খাত থেকে বছরে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করতে পারবে বলে বাজুস মনে করে। পাশাপাশি বাজারে জমে থাকা অপ্রদর্শিত স্বর্ণ এককালীন ফি দিয়ে প্রদর্শনের সুযোগ দিলে সরকার ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা পর্যন্ত রাজস্ব আহরণ করতে পারবে। একই সঙ্গে দেশের মোট মজুদের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
দেশীয় কারিগরদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০টি নতুন আধুনিক কারখানা গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের কথা জানানো হয়। এর মাধ্যমে প্রায় ৫০ হাজার প্রত্যক্ষ ও ১ লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্প খাতে অতিরিক্ত অবদান রাখার জন্য ০.৫ শতাংশ প্রণোদনার বিষয়েও প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বাজুস আরও জানায়, ২০০৬ সালের পর থেকে সকল অমসৃণ হীরা আমদানি-রপ্তানি নীতিমালা এবং আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্কহার কমিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি ‘সুবর্ণপল্লী’তে ডায়মন্ড প্রসেসিং ইউনিট করা গেলে ৫-১০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ২০৩১ সালের মধ্যে বছরে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের ডায়মন্ড জুয়েলারি রপ্তানি সম্ভব হবে।
জুয়েলারি খাতে প্রতিযোগিতামূলক নীতিমালা প্রণয়ন, আমদানির পথ সহজীকরণ এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আগামী ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে মোট ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের স্বর্ণ ও হীরার অলংকার রপ্তানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাজুস। এর মাধ্যমে জুয়েলারি খাতকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে পরিণত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
বক্তব্যের শেষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল মন্ত্রী, আমন্ত্রিত অতিথি এবং কার্নিভাল আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান জনাব আজাদ আহমেদসহ সকল উপ-কমিটির সদস্যদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়।