• ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

“ভ্যালু-বেইজড শিক্ষা, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা ও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ—প্রাথমিক শিক্ষার নতুন অগ্রাধিকার”: ববি হাজ্জাজ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত জুলাই ২১, ২০২৬
“ভ্যালু-বেইজড শিক্ষা, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা ও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ—প্রাথমিক শিক্ষার নতুন অগ্রাধিকার”: ববি হাজ্জাজ

ডিজিটাল প্রযুক্তিকে ভয় নয়, বরং নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ব্যবহারের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা থেমে থাকবে না। তাই শিশু-কিশোরদের প্রযুক্তি থেকে দূরে সরিয়ে নয়, বরং সঠিক ব্যবহার শেখানোর মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।

আজ ঢাকার গুলশানে হোটেল লেকশোরে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন আয়োজিত ডিজিটাল জেন্ডার নরমস(ডিজিটাল পরিসরে লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক মানদণ্ড):জাতীয় শিখন-অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে জনগণের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। বরং সেই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে, ডিজিটাল মাধ্যম আজ সমাজ, রাষ্ট্র ও নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই প্রযুক্তিকে অস্বীকার নয়, বরং সঠিকভাবে ব্যবহারের সক্ষমতা গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সমাজের প্রচলিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের একটি স্পষ্ট অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। এই ব্যবধান দূর করতে শিক্ষা, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের নিরাপদ ডিজিটাল আচরণ, তথ্য যাচাই এবং অনলাইন নৈতিকতা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।

ববি হাজ্জাজ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ছবি, ভুয়া ভিডিও, চরিত্রহনন ও ডিজিটাল হয়রানি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে নারী, কিশোরী ও নারী রাজনীতিবিদরা এর সবচেয়ে বড় শিকার। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং শিশু ও নারীদের সুরক্ষায় কার্যকর আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়ন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে অযৌক্তিক বাধা সৃষ্টি করা নয়; বরং স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মধ্যে একটি ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় শিশু ও নারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় ভ্যালু-বেইজড এডুকেশন, ডিজিটাল সেফটি, লাইফ স্কিল, জেন্ডার সংবেদনশীলতা এবং নাগরিক মূল্যবোধকে নতুন কারিকুলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করছে। এ লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, ইউনেস্কোসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।

তিনি জানান, নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার আওতায় আনতে ধাপে ধাপে শ্রেণিকক্ষে ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু, শিক্ষকদের জন্য ট্যাব এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্যও শিক্ষাবান্ধব ডিজিটাল ডিভাইস প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, শিশুদের নিরাপদ বিকাশ নিশ্চিত করা শুধু বাবা-মায়ের দায়িত্ব নয়; এটি পুরো সমাজের দায়িত্ব। এজন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কমিউনিটি সম্পৃক্ততা বাড়ানো হচ্ছে। স্কুল মিল কার্যক্রম তদারকিতে ইতোমধ্যে গার্ডিয়ান কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যান্য ক্ষেত্রেও অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় এনজিওগুলোর উদ্দেশে বলেন, যে উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর প্রমাণিত হবে, সরকার তা গ্রহণ ও বিস্তৃত করতে প্রস্তুত। আমাদের মন্ত্রণালয় এখন ওপেন-ডোর নীতিতে কাজ করছে। আপনারা ফলপ্রসূ উদ্যোগ নিয়ে আসুন, আমরা তা মূল্যায়ন করে বৃহত্তর পরিসরে বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।

নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য কেবল স্লোগান নয়, শৈশব থেকেই সমান সুযোগ, সমান অধিকার, নিরাপদ পরিবেশ এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই এই পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের প্রতিনিধি,খুলনা ও সাভার অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকবৃন্দ, ইউএন উইমেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, জাগো ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

October 2026
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31