বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য
দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করতে বিজ্ঞানীদের প্রকৃত অর্থে মৌলিক গবেষণায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, গবেষকদের প্রমাণ করতে হবে যে তাদের গবেষণা বিদ্যমান বৈশ্বিক গবেষণা থেকে স্বতন্ত্র, নতুনত্বপূর্ণ এবং বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে সক্ষম।
আজ মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) ‘মিঠাপানির মাছের মড়ক প্রতিরোধে ভ্যাকসিন উদ্ভাবন’ প্রকল্পের উদ্বোধনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, দেশের মৎস্যখাতের টেকসই উন্নয়নে যুগোপযোগী গবেষণা ও নতুন নতুন উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই। গবেষণার মাধ্যমে যারা মৎস্যখাতে উল্লেখযোগ্য ও দৃশ্যমান অবদান রাখবেন, সরকার তাদের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশেষভাবে সম্মানিত ও পুরস্কৃত করবে। সরকার গুণীজন, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের যথাযথ মর্যাদা দিতে বদ্ধপরিকর এবং নতুন নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি বিকাশে তাঁদের বলিষ্ঠ ভূমিকার দিকে প্রত্যাশার দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে।
দেশে বহু গবেষণা প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও এখনও গবেষণার একটি সুস্পষ্ট ও স্বতন্ত্র ধারা পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশে যখন বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তখন তার দৃশ্যমান ফলাফল ও নিজস্ব মানসম্পন্ন গবেষণা-ধারা প্রতিষ্ঠিত হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।
মন্ত্রী আরও বলেন, পানির গুণগত মান বজায় রাখা মাছ চাষের অন্যতম প্রধান নিয়ামক। পানিকে মাছের উপযোগী করে তুলতে পারলে মাছের রোগবালাই অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এ লক্ষ্যে বিজ্ঞানী ও মৎস্য কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারসহ বিভিন্ন পরিবেশগত কারণে প্রাকৃতিক জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে দেশীয় মাছের অনেক প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে ব্যাপক গবেষণা, জনসচেতনতা এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশের মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় থাকা মিঠাপানির মাছকে রোগমুক্ত ও টেকসইভাবে সংরক্ষণের লক্ষ্যে ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মড়ক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর গবেষণা পরিচালনার কোনো বিকল্প নেই।
একই সাথে মাছ চাষে অযৌক্তিক ও অনিয়ন্ত্রণযোগ্যভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবণতা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি গবাদিপশুর জন্য ব্যবহৃত কিছু অ্যান্টিবায়োটিকও মৎস্য খামারে প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরকে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।