আজ ১৭ মার্চ। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ার নিভৃত পল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবুর রহমান। শেখ লুৎফর রহমান ও সায়েরা খাতুনের কোল আলো করে আসা সেই শিশুটিই পরবর্তীতে হয়ে ওঠেন বাঙালির ‘বঙ্গবন্ধু’ ও জাতির পিতা।
ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান শাসনামল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জীবন ছিল লড়াই-সংগ্রামের এক মহাকাব্য। কৈশোরেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি হওয়া এই নেতা জীবনের দীর্ঘ একটি সময় কাটিয়েছেন কারান্তরালে।
কারাজীবন: পাকিস্তান আমলের ২৪ বছরের মধ্যে প্রায় ১৩ বছরই (৪,৬৮২ দিন) তিনি বন্দি ছিলেন। এমনকি তাঁর জীবনের ৮টি জন্মদিন কেটেছে নির্জন কারাগারে।
ঐতিহাসিক মাইলফলক: ১৯৪৮-এ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা, ‘৬৬-র ছয় দফা, ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ‘৭০-এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের মাধ্যমে তিনি হয়ে ওঠেন বাঙালির একমাত্র আশা-ভরসার স্থল।
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তাঁর বজ্রকণ্ঠের ঘোষণা— “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”—পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। ২৫শে মার্চ রাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ই ডিসেম্বর বিশ্বমানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।
ক্ষমতা বা আড়ম্বর বঙ্গবন্ধুকে কখনো আকর্ষণ করেনি। তিনি নিজে কখনো জাঁকজমকভাবে জন্মদিন পালন করতেন না। ডায়েরিতে বা স্মৃতিকথায় তিনি লিখে গেছেন, জনগণের কল্যাণই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় পাওয়া। সাধারণত পরিবারের সদস্যদের ভালোবাসা আর নেতাকর্মীদের অনাড়ম্বর শুভেচ্ছাতেই কাটত তাঁর বিশেষ এই দিনটি।
স্মৃতি ও শোক
১৯৭২ সালে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সপরিবারে নিহত হন এই মহান নেতা। তাঁর মৃত্যুতে থমকে গিয়েছিল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা, কিন্তু তাঁর আদর্শ আজও কোটি বাঙালির ধমনীতে বহমান।
আজ সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে উদযাপিত হচ্ছে এই মহান নেতার জন্মবার্ষিকী। টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে স্মরণ করা হচ্ছে বাঙালির প্রাণপুরুষকে।