• ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

১৩ বছর বয়সি মাদ্রাসা ছাত্র মোঃ আতিক হাসান’কে অপহরণ পূর্বক হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনায় জড়িত মূল আসামি মোঃ তারেক মিয়া @ নুর আলম (২০) ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতারসহ লাশ উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৩

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ১৯, ২০২৫
১৩ বছর বয়সি মাদ্রাসা ছাত্র মোঃ আতিক হাসান’কে অপহরণ পূর্বক হত্যা ও লাশ গুমের ঘটনায় জড়িত মূল আসামি মোঃ তারেক মিয়া @ নুর আলম (২০) ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতারসহ লাশ উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৩

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। অপহরণ, হত্যা, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, জাল নোট ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, মানব পাচারকারী, প্রতারক এবং বিভিন্ন মামলার মৃত্যুদন্ড ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেফতার করে সাধারন জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ রাজধানীর শাহবাগ থানাধীন আজিজ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী মোঃ বাবুল হোসেন এর ছেলে আল কোরআন ইসলামীয়া মাদ্রাসার মাওলানা বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ আতিক হাসান (১৩) আজিজ মার্কেটের পশ্চিম পার্শ্ব রাস্তার মোড় হতে নিজের অজান্তে হারিয়ে যায় মর্মে তার পিতা গত ১৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করে। পরবর্তীতে গত ১৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ একটি অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর হতে এক কোটি টাকা মুক্তিপনের বিনিময়ে তার ছেলেকে ছেড়ে দিবে মর্মে ব্যবসায়ী মোঃ বাবুল হোসেন এর নিকট ফোন করে। তিনি গত ১৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে এ ব্যাপারে সহযোগীতার জন্য র‌্যাব-৩ এর অফিসে আবেদন করলে র‌্যাব এ বিষয়ে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। গোয়েন্দা সূত্র হতে প্রাপ্ত তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এই ঘটনার সাথে জড়িদের গ্রেফতারে গত ১৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ একটি অভিযান পরিচালনা করে মোঃ তারেক মিয়া @নুর আলম (২০), পিতা-মোঃ ইসমাইল ভূঁইয়া, থানা-হাইমচর, জেলা- চাঁদপুর’কে সনাক্ত করলে ভিকটিমের পিতা ব্যবসায়ী মোঃ বাবুল হোসেন তাকে তার কর্মচারী বলে জানায়। মোঃ তারেক মিয়া @নুর আলম (২০) কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায় ভিকটিম মারা গেছে। পরবর্তীতে ভিকটিমের পরিবার ও র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল তুরাগ থানাধীন ১৫ নং সেক্টরস্থ ৩ নং ব্রীজের পূর্ব-দক্ষিণ পার্শ্বে লেকের পানির মধ্যে কচুরিপানার নিচ হতে ভিকটিমের লাশ উদ্ধার করে। আসামির দেওয়া তথ্যমতে তার সহযোগী অপর ০২ জন আসামি নিরব মন্ডল (২১), পিতা- রমেশ চন্দ্র মন্ডল, থানা- দোহার, জেলা-ঢাকা এবং প্রিয়ন্ত মন্ডল (১৯), পিতা- মৃত অমল মন্ডল, থানা- পল্লবী, ডিএমপি, ঢাকাদ্বয়কে তুরাগ থানাধীন বৃন্দাবন এলাকা হতে গত ১৮ নভেম্বর ২০২৫ রাতে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ তারেক মিয়া @ নুর আলম (২০) এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সে ভিকটিমের পিতা মোঃ বাবুল হোসেন এর দোকানের কর্মচারী। দোকানে কাজের পাশাপাশি সে নিয়মিত ভিকটিমকে মাদ্রাসায় আনা নেওয়া করত। ঘটনার দিন ১৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় ভিকটিম মোঃ আতিক হাসান (১৩)’কে হত্যাকারী মোঃ তারেক মিয়া @ নুর আলম (২০) রাজধানীর তুরাগ থানাধীন দিয়াবাড়ী এলাকায় ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে শাহবাগ হতে মেট্রোরেলে করে উত্তরা সেন্টার মেট্রো ষ্টেশনে নেমে তুরাগ থানাধীন ১৫ নং সেক্টর এলাকায় ঘুরতে নিয়ে যায়। ঘোরাঘুরি এক পর্যায়ে সুযোগ বুঝে ভিকটিমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লেকের ভিতর পানির মধ্যে কচুরিপানার নিচে লাশ লুকিয়ে রাখে। হত্যার কারন হিসেবে হত্যাকারী মোঃ তারেক মিয়া @ নুর আলম (২০) জানায় ভিকটিমের পিতার প্রতি তার আগে হতে ক্ষোভ ছিল। দোকানে নিয়মিত কাজ করলেও ভিকটিমের পিতা ঠিকমত হাজিরার টাকা দিত না এবং তার সাথে অত্যন্ত জঘন্য আচরন করত। দিনের পর দিন তার সাথে এই ধরনের ব্যবহারে ফলে তার ভিতরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং সে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সুযোগ খুজতে থাকে। এই সুযোগ খোজার এক পর্যায়ে যেহেতু ঘটনার দিন ভিকটিমের মাদ্রাসা বন্ধ ছিল তাই সে তাকে সাথে নিয়ে রাজধানীর দিয়াবাড়ি এলাকায় বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে তাকে হত্যা করে। তবে হত্যার ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য আসামি মোঃ তারেক মিয়া @ নুর আলম (২০) টাকার বিনিময়ে মুক্তিপনের ঘটনা সাজায় এবং সে অনুযায়ী ভিকটিমের পিতার নিকট বিভিন্ন মোবাইল নম্বর হতে ফোন করে।

এই ঘটনার প্রধান আসামি মোঃ তারেক মিয়া @ নুর আলম (২০) এর ভাষ্যমতে অপর দুইজন আসামি নিরব মন্ডল (২১), পিতা- রমেশ চন্দ্র মন্ডল, থানা- দোহার, জেলা-ঢাকা এবং প্রিয়ন্ত মন্ডল (১৯), পিতা- মৃত অমল মন্ডল, থানা- পল্লবী, ডিএমপি, ঢাকা হত্যাকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত নিরব মন্ডল (২১) ও প্রিয়ন্ত মন্ডল (১৯) এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত নয় বলে জানায়।

ধৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজধানীর তুরাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

July 2026
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031