• ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ ট্রেডমার্কেট স্টাডি প্রকাশ করলো এইচএসবিসি এটি দ্বিপাক্ষিক টেকসই প্রবৃদ্ধির গতিধারার উন্নয়নে সহায়ক হবে

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ২২, ২০২৪
যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ ট্রেডমার্কেট স্টাডি প্রকাশ করলো এইচএসবিসি এটি দ্বিপাক্ষিক টেকসই প্রবৃদ্ধির গতিধারার উন্নয়নে সহায়ক হবে

দি হংকং এন্ড সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন লিমিটেড (এইচএসবিসি) বাংলাদেশ সম্প্রতি “ন্যাভিগেটিং নিউ অপচুনিটিজ: এনালাইসিস অফ দি ইউকে-বাংলাদেশ ট্রেড ডাইনামিক্স” শীর্ষক যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশের বাণিজ্যিক বাজারভিত্তিক একটি গবেষণা প্রকাশ করেছে। গবেষণাটি এইচএসবিসির পৃষ্ঠপোষকতায়, আর্নস্ট এন্ড ইয়াং এবং কে এশিয়া দ্বারা পরিচালিত হয়েছে, যা দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পকেরই উদযাপন। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগটি নভেম্বর ২০২৩-এ গ্রহন করা হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। অনুষ্ঠানে ড্যান পাশা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিচালক, ব্রিটিশ হাইকমিশন; শামীমা আক্তার, পরিচালক, কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপ অ্যান্ড কমিউনিকেশনস্, ইউনিলিভার বাংলাদেশ; নওশাদ একরামুল্লাহ্, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়াং, বাংলাদেশ; শুচি ত্রিবেদী, পার্টনার, আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়াং, এলএলপি; শায়লা রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কে এশিয়া; ফিলিপ চৌধুরী, পরিচালক, কে এশিয়া; স্টুয়ার্ট রজার্স, রিজিওনাল হেড অফ কমার্শিয়াল ব্যাংকিং, ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটস, এশিয়া প্যাসিফিক, এইচএসবিসি; মো: মাহবুব উর রহমান, সিইও, এইচএসবিসি বাংলাদেশ সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং ট্রেড এসোসিয়েশন প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছিল।

যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। বাংলাদেশে পোশাক, ব্যাংকিং এবং শিক্ষা সহ বিভিন্ন খাতে ২৪০ টিরও বেশি যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ব্যবসার বিনিয়োগ রয়েছে। “ন্যাভিগেটিং নিউ অপচুনিটিজ: এনালাইসিস অফ দি ইউকে-বাংলাদেশ ট্রেড ডাইনামিক্স” শীর্ষক গবেষণায় এই দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি উদ্যোগের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এই গবেষণায়, বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে শুধু তৈরি পোশাকের উপর নির্ভর না রেখে বহুমুখী খাতকে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে ঔষধ শিল্প, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে, যুক্তরাজ্যের ডেভেলপিং কান্ট্রিস ট্রেডিং স্কিম (ডিসিটিএস) এর গুরুত্ব উল্লেখ করা হয়েেেছ, যা বাংলাদেশকে গ্লোবাল সাপ্লই চেইনে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত করার পাশাপাশি বাংলাদেশকে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে আরও সহজ করার জন্য বন্দর, লজিস্টিকস এবং ডিজিটাল ব্যবস্থায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা প্রয়োজন। এছাড়াও, এই দ্বিপাক্ষিক সমন্বয়কে জোরালো করতে, বিভিন্ন অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক কাঠামোগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথিগণ প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দেন এবং বাংলাদেশের সম্ভাবনাগুলোকে তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, দেশের বৃহৎ ভোক্তা বাজার, প্রযুক্তি-সচেতন তরুণ প্রজন্ম, যুক্তরাজ্যের সাথে ঐতিহাসিক ও ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক, এবং বৈচিত্রময় বিনিয়োগ ক্ষেত্র যেমন উৎপাদন, শিক্ষা, ঔষধ শিল্প ও প্রযুক্তি বাংলাদেশের জন্য অপার সম্ভবনার সৃষ্টি করেছে। এছাড়াও, সবাই মিলে কিভাবে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নেয়া যেতে পারে তার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয় এই প্যানেলে।

প্রধান অতিথি লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, “বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য একটি উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংস্কারের পথে এগিয়ে চলেছে। যারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে এবং পণ্য রপ্তানি করতে আগ্রহী, আমাদের সরকার সবসময় দায়িত্বশীল ব্যবসার পাশে থাকবে। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু; এই দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্ভাবনাগুলো খুঁজে বের করার উদ্যোগের জন্য আমি এইচএসবিসি-কে ধন্যবাদ জানাই।”
যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক তার বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে এগোচ্ছে; আর এ সময় কৌশলগত সুযোগগুলো কাজে লাগানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যের ডেভেলপিং কান্ট্রিস ট্রেডিং স্কিম (ডিসিটিএস) বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার ধরে রাখতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে, এটি ইলেকট্রনিকস, ঔষধ শিল্প, চামড়াজাত পণ্য এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের মতো উচ্চমূল্যের শিল্পগুলোর বিকাশকে উৎসাহিত করবে।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে যৌথভাবে কাজ করার মাধ্যমে আমরা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে, উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করতে এবং উভয় দেশের জন্য লাভজনক একটি টেকসই বাণিজ্য অংশীদারিত্ব গড়তে সক্ষম হবো।”

এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো: মাহবুব উর রহমান যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সম্পর্কের গুরুত্ব এবং এর মধ্যবর্তী বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নয়নে এইচএসবিসির ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ সম্পর্ক একটি সমৃদ্ধ ইতিহাসের উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত এবং যার ভবিষ্যতে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে, নির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ এই কৌশলগত সম্পর্কগুলোকে আরও দৃঢ় এবং শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আর্নস্ট এন্ড ইয়াং এবং কে এশিয়া- এর এই গবেষণা নীতি-নির্ধারক ও বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে, যা দ্বিপাক্ষিক টেকসই প্রবৃদ্ধির গতিধারাকে আরও ত্বরান্বিত করবে।”

November 2026
S S M T W T F
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930