ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম একটি অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্র শিবিরের ঢাবি শাখার সভাপতি আবু সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, আমরা দেখে আসছি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী রেজিমে ছাত্রলীগ কী রকম ভয়ানক রূপ ধারণ করেছিল। খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ক্যাম্পাস দখল, ছাত্র-শিক্ষক নির্যাতনসহ অপরাধের এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে তাদের বিচরণ ছিল না।
বুধবার দিবাগত রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমন মন্তব্য করেন।
ছাত্রশিবির এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি সাদিক কায়েম বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে শহীদ নোমানী, আবুবকর, বিশ্বজিৎ, আবরারকে কি ভয়ানকভাবে শহীদ করেছে ছাত্রলীগ। সর্বশেষ চব্বিশের বিপ্লবে শতসহস্র ভাই-বোনকে পৈশাচিকভাবে রক্তাক্ত করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে যা বাংলাদেশের ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম কালো অধ্যায়। জুলাইয়ে শহীদ হওয়া নাসিমা, তরুয়া, ওয়াসীম, আবু সাঈদ, আলী রায়হান, মুগ্ধ, শান্তরা আমাদের চোখের সামনেই হারিয়ে গেল অন্তিম ঠিকানায়।
সকল অপরাধী ও সমর্থনকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু নিষিদ্ধ নয়, যারা খুন, ধর্ষণ, গণহত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত ছিল ও সমর্থন দিয়ে গেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। পরে যেন দেশকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে না পারে সেদিকে ছাত্রজনতা ও সরকারের সচেতন দৃষ্টিই জাতির একান্ত প্রত্যাশা।
এদিকে, ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করার পর ছাত্রদল জানিয়েছে, এ পদক্ষেপ ছাত্ররাজনীতি কলঙ্কমুক্ত করেছে। তবে তারা সতর্ক করেছেন, নিষেধাজ্ঞাই চূড়ান্ত সমাধান নয়; সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
বুধবার (২৩ অক্টোবর) ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এক বার্তায় এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ একটি খুনি সংগঠন। তারা খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, ভোট ডাকাতি এবং গণহত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত। সব জঙ্গি সংগঠনের চেয়ে ছাত্রলীগের হাতে বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।’
এসময় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির আরও বলেন, ২০০৯ সাল থেকে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ছাত্রদল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। এই প্রতিরোধের ফলে ছাত্রলীগ এবং সরকারি বাহিনীর হাতে ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মী গুম এবং শহীদ হয়েছেন। ছাত্রলীগ ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে।
তিনি আরও বলেন, যখন বিভিন্ন মহল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি উঠেছিল, তখন ছাত্রদল শুধু ছাত্রলীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছিল। আজ ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞার ফলে ছাত্ররাজনীতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে এবং গণতন্ত্রকামী সকল ছাত্র সংগঠন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সুস্থ ধারার রাজনীতির চর্চার পথ উন্মুক্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।