ডায়মন্ড জুয়েলারি নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণায় বৈধ ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ
সম্প্রতি দেশের কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে ‘নকল হিরায় বাজার সয়লাব’ এবং ‘হিরার নামে কাচ কিনছে মানুষ’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)-এর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এসব প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু নিয়ে দেশের বৈধ ও নিবন্ধিত ডায়মন্ড জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে।
বাজুস মনে করে, দীর্ঘ ১৫ বছরের শ্রম ও বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে ডায়মন্ড জুয়েলারি শিল্প গড়ে উঠেছে। কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া নেতিবাচক প্রচারণার কারণে দেশের সামর্থ্যবান ক্রেতারা দেশ থেকে ডায়মন্ড না কিনে ভারত, হংকং, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে গিয়ে ডায়মন্ড জুয়েলারি কিনতে উৎসাহিত হতে পারেন। এতে দেশীয় ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাজুসের কোনো সদস্য নকল হীরা বিক্রি করছেন—এমন সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ বা অভিযোগ বর্তমানে বাজুসের কাছে নেই। দেশে এখন আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব সুবিধা রয়েছে। ফলে কোনো হীরা আসল নাকি নকল, তা অনুমানের ভিত্তিতে নয়, বরং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব।
বর্তমানে ঢাকা মহানগরীতে প্রায় ৩৫০টি ডায়মন্ড জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বাজুসের সদস্য হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করছে। সম্প্রতি নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশের পর এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই বাজুসের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়েছেন, এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়া, বিক্রি কমে যাওয়া এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার মতো নেতিবাচক প্রভাবও পড়ছে।
ডায়মন্ড জুয়েলারি খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী, কারিগর, কর্মচারী ও তাদের পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। এ খাত সম্পর্কে অসত্য, অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণা অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এর ফলে আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অনিয়মের বিরুদ্ধে বাজুসের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি
বাজুসের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা প্রতারণার সুনির্দিষ্ট ও তথ্যভিত্তিক অভিযোগ থাকলে সংগঠনটি তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বাজুস।
বাজুস বিশ্বাস করে, সত্য, বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের সুষ্ঠু পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ডায়মন্ড জুয়েলারি খাত নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে তথ্য-প্রমাণ যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।
একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া সমগ্র ডায়মন্ড জুয়েলারি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন না করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বাজুস এর প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খান দোলন অনুরোধ জানিয়েছেন।