জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সময় থানা ও পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে বিপুল পরিমান অস্ত্র ও গোলা বারুদ লুট হয়েছে যার মধ্যে প্রায় ১৫০০টি অস্ত্র এবং দেড় লাখের অধিক রাউন্ড গুলি অদ্যবধি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। ফলে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রস্তুতিকালীন স্পর্শকাতর এই সময়ে জনমনে আশংকা বিরাজ করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রানলায়ের নির্দেশনা মোতাবেক সিলেট বিভাগীয় আসন্ন নির্বাচনে সহিংসতা, সন্ত্রাস ও নাশকতামূলক পরিস্থিতি মোকাবেলায় র্যাব-৯ এর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ও বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। গত ০৫ আগস্ট ২০২৪ এরপর থেকে অদ্যবধি র্যাব-৯ সিলেট বিভাগ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার দায়িত্বপূর্ণ এলাকা থেকে সর্বমোট ২২টি দেশী ও বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র, ৯৩ রাউন্ড গুলি, ৩৩৫৫ গ্রাম বিস্ফোরক ও ১৮টি ডেটোনেটর উদ্ধার করেছে। যা সর্বমহলে প্রসংশিত হয়েছে এবং সিলেট বিভাগীয় আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
গতকাল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানাধীন সম্মান এলাকায় জনৈক মোক্তাদিরের বাসায় বিপুল পরিমান দেশি-বিদেশি জাল নোট এবং আগ্নেয়াস্ত্র মজুদ রয়েছে। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-২, মৌলভীবাজার এবং সদর কোম্পানি, সিলেট এর যৌথ আভিযানিক দল অদ্য ১৪ অক্টোবর আনুমানিক রাত ০০.২৫ ঘটিকায় উল্লেখিত বাসায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে উক্ত ব্যক্তির বসত ঘরের ওয়ারড্রব থেকে আনুমানিক ৩০ লক্ষ টাকা মূল্য মানের দেশী এবং প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা মূল্য মানের বিদেশী নোটসহ সর্বমোট প্রায় ০১ কোটি টাকা মূল্যমানের দেশি-বিদেশি জাল নোট উদ্ধার করে। এছাড়াও উক্ত বাসা থেকে আসল সদৃশ ০৫টি নকল বিদেশী পিস্তল এবং নকল ০৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করত: বর্ণিত মোক্তাদির আলী @রিপন (৩৪) পিতা- তৈয়ব আলীকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় বিগত তিন মাস যাবত বিভিন্ন সরবরাহকারী থেকে অনলাইনের মাধ্যমে উদ্ধারকৃত নকল পিস্তল ও জাল টাকা ক্রয় করে অনলাইনে আগ্রহী জনসাধারনের কাছে বিক্রয় করে আসছে। প্রথমিকভাবে সে ভিডিও কলের মাধ্যমে নকল টাকা ও অস্ত্র দেখিয়ে আসল বলে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতো। পরবর্তীতে কিছু ক্ষেত্রে কুরিয়ারের মাধ্যমে নকল অস্ত্র ও জাল টাকা সরবরাহ করলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নকল কুরিয়ার ডেলিভারি স্লিপ অনলাইনে প্রদর্শন করে অগ্রিম টাকা নিয়ে ফোন বন্ধ করে দিত। এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে সে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নিতো বলে স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্য মতে নকল অস্ত্র সরবরাহকারী ও জাল টাকা প্রস্তুতকারীকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের পূর্বক গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি এবং জব্দকৃত আলামত সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।