সামরিক বাহিনী সংক্রান্ত ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) আমন্ত্রণে গত ৯ ও ১০ আগস্ট ২০২৬ ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং’ (R&AW)-এর প্রধান পরাগ জৈনের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল পূর্বনির্ধারিত দুই দিনের সফরে ঢাকা আগমন করেন। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা ছিলেন অশ্বীন মুকুন্দ কোটনিস, রাহুল নেগি এবং শৈবাল রায় চৌধুরী।
সফরকালে প্রতিনিধি দলটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সাথে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন।
উক্ত বৈঠকসমূহে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ভারতের পরিবর্তিত ভূমিকা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও দৃশ্যমান অবস্থান তুলে ধরা হয়। আলোচনার মূল বিষয়বস্তুসমূহ নিচে উপস্থাপন করা হলো:
বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর যেসকল অভিযুক্ত কর্মকর্তা বর্তমানে ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, ঠিক কোন বিবেচনায় ভারত সরকার তাদের নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত এবং বর্তমানে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আটক ফয়সাল করিম, তার সহযোগী আলমগীর ও ফিলিপকে বাংলাদেশে হস্তান্তরের সুস্পষ্ট তারিখ ও সময়সীমা দাবি করা হয়।
বাংলাদেশে বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি এবং বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর অন্যান্য পলাতক সহযোগীদের অনতিবিলম্বে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উত্থাপন করা হয়।
বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা প্রদান করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ইতিবাচক ধারায় বজায় রাখা সম্পূর্ণভাবে ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কর্মকর্তা, ওসমান হাদী হত্যার আসামিরা এবং শাস্তিপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য অপরাধীদের দ্রুত বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমেই ভারতকে এই সম্পর্কের প্রতি তাদের আন্তরিকতা প্রমাণ করতে হবে।