সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনকাল শেষে মব ভায়োলেন্স বা জনরোষের আতঙ্কে সরকারি বাসভবন ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করছেন বিগত সরকারের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা ও শীর্ষ কর্মকর্তা। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বিগত ১৮ মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তারা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।
মানবাধিকার পরিস্থিতি ও জনরোষের প্রেক্ষাপট:
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশি মানবাধিকার সংস্থা যেমন—হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)-এর প্রতিবেদনে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের মানবাধিকার চিত্র উঠে এসেছে।
গত ১৭ মাসে মব সহিংসতার ৪১৩টি ঘটনায় ২৫৯ জন নিহত এবং ৩১৩ জন আহত হয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ও নির্যাতনে ১৭ মাসে ৬০ জন এবং কারাগারে ১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সাবেক এক উপদেষ্টা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ভাঙচুর, মাজার ভাঙচুর এবং বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ থাকায় তারা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং আবাসন পরিদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে যে, সাবেক উপদেষ্টাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সরকারি বাসভবন ব্যবহারের কোনো বিশেষ নীতিমালা নেই।
সাবেক উপদেষ্টাদের চলতি ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বাসা ছাড়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে সর্বোচ্চ এক থেকে দুই মাস সময় দেওয়া হতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করতে হবে।
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চলতি মাসেই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ ছেড়ে গুলশানের নিজস্ব বাসভবনে উঠবেন বলে জানা গেছে।
বর্তমান তারেক রহমান সরকারের ৪৯ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং অন্যান্য পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য মিন্টো রোড ও হেয়ার রোডের বাড়িগুলো দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে ২১ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বাসার জন্য আবেদন করেছেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ আপাতত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সচিব ও আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা বৈঠক করে মার্চ মাসের মধ্যেই নতুন মন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের বাসা বরাদ্দ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।
সাবেক সরকার সংশ্লিষ্টদের বাসভবন খালি করার বিষয়ে ইতিমধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।