ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের অর্থনীতি এবং ব্যবসায়ী সমাজের স্বার্থে কাজ করার আহবান
ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের অর্থনীতি এবং ব্যবসায়ী সমাজের স্বার্থে কাজ করার আহবান
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত অক্টোবর ২৬, ২০২৫
রাজীব দে ঢাকাঃ
রাজধানী ঢাকার শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে এ দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের সৌজন্যে এক মেজবান ও মিলনমেলা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের সর্ববৃহৎ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) নির্বাচনে প্রগতিশীল ব্যবসায়ী পরিষদ প্যানেল লিডার এবং বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেছেন, নির্বাচিত হলে দেশের ৪ কোটি ব্যবসায়ীদের ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা দেবেন তিনি। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নেও তিনি অগ্রাধিকার দেবেন। ব্যবসায়ীদের যেকোনো সমস্যা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সমাধানের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
প্রগতিশীল ব্যবসায়ী পরিষদ প্যানেলের এক মেজবান অনুষ্ঠানে শনিবার (২৫ অক্টোবর) এসব অঙ্গীকার করেন তিনি।
রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে এ আয়োজন করা হয়। এফবিসিসিআইর সদস্য বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
দেশের স্বনামধন্য আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান শওকত আজিজ রাসেল আরো বলেন, বর্তমানে দেশের ব্যবসায়ী সমাজের সবচেয়ে বড় সমস্যা নেতৃত্ব সংকট। অতীতে অনেক ব্যবসায়ী নেতাই ব্যবসায়ীদের সুখ-দুঃখের বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে দেশ–বিদেশ সফর করে বেড়িয়েছেন।
তিনি নির্বাচিত হলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে থেকেই সব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।
শওকত আজিজ রাসেল বলেন, সময় এসেছে সকল ব্যবসায়ীদের একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার। সব ব্যবসায়ীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের অর্থনীতি এবং ব্যবসায়ী সমাজের স্বার্থে কাজ করতে হবে। জমকালো এই অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লাকি কুপন ড্র অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য গত ৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচনে ভোট গ্রহণের কথা ছিল। এ লক্ষ্যে সরকারে নিয়োগ দেওয়া প্রশাসক কাজ করেছেন। তবে প্রশাসকের নির্ধারিত মেয়াদ এবং বর্ধিত মেয়াদের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হয়নি। এফবিসিসিআই নির্বাচনের পরিবর্তিত তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে প্রচার প্রচারণা আছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে এফবিসিসিআইয়ের তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই বছর ১১ সেপ্টেম্বর প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমানকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার দায়িত্ব ছিল ১২০ দিনের মধ্যে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত পর্ষদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা। দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যবসায়ীদের জোট ’বৈষম্য বিরোধী সংস্কার পরিষদ- এফবিসিসিআই’ সহ অন্যান্য ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে এফবিসিসিআই–এর সংস্কার বাস্তবায়নের কাজে হাত দেন তিনি। পরবর্তীতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনের সময়সীমা আরো ৪৫ দিন পেছানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হলে প্রশাসকের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়। প্রশাসকের সর্বশেষ বর্ধিত মেয়াদও শেষ হয়েছে গত ১০ সেপ্টেম্বর। বর্তমানে দেশের শীর্ষস্হানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই অভিভাবক শুন্য অবস্থায় রয়েছে।