রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবনের বাসভবনের সামনে অবস্থানরত দুই শিক্ষার্থী সহ তিন জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতরা হলেন, শ্যামপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ বিশাল, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফ খান এবং ফুটপাতের দোকানি শফিকুল ইসলাম সেলিম।
প্রেসিডেন্ট এর পদত্যাগের দাবিতে তাঁর সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনের ব্যারিকেড ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণে একজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
রাতে একদল বিক্ষোভকারী বঙ্গভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পিজিআর সদস্যরা বেরিকেডের সামনে অবস্থান নেয়।
এদিকে গুলিবিদ্ধ ফয়সাল বলেন, আমরা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবনে ঢোকার চেষ্টা করি। এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বাধার মুখে পড়ি। ওখানে ছত্রভঙ্গ করার জন্য ছররা গুলি এবং সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এ সময় কয়েকটি গুলি ডান পায়ের উরু ও বাম পায়ের গোড়ালিতে লাগে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ যদি আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় তাহলে আমরা কেন দেশ স্বাধীন করলাম? পুলিশ আমাদের বন্ধু কিন্তু আমাদের ওপর কেন গুলি চালাল?
সাউন্ড গ্রেনেডে আহত সিদ্ধেশ্বরী কলেজের আরিফ খান (২০) বঙ্গভবনের সামনে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ দাবি করছিলাম। বঙ্গভবনের ভেতরে ঢুকতে চাইলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলি ছুঁড়ে। এ সময় আমার পায়ের ওপর একটি সাউন্ড গ্রেনেড এসে পড়ে। এতে আমি আহত হই। আমি সিদ্ধেশ্বরী কলেজে লেখাপড়া করি।
গুলিবিদ্ধ শফিকুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে সংহতি প্রকাশ করে আমরা বঙ্গভবনের সামনে এসেছিলাম। আমি ব্যবসা করি। এক শিক্ষার্থীকে বাঁচাতে গিয়ে আমার ডান পায়ে গুলি লাগে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, বঙ্গভবনের সামনে থেকে আহত অবস্থায় তিনজন এসেছেন। এদের মধ্যে দুজন গুলিবিদ্ধ।জরুরী ভিত্তিতে তাদের চিকিৎসা চলছে।