• ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৪ঠা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৮ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত: ৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর চুক্তি স্বাক্ষর

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত জুন ১১, ২০২৬
দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত: ৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুর চুক্তি স্বাক্ষর

দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে ৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবায়ন চুক্তি (Implementation Agreement) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

আজ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্মসচিব (বৈদেশিক সহায়তা অধিশাখা) ড. মোঃ মোকছেদ আলী, এনডিসি এবং চীন সরকারের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কাউন্সেলর মি. সং ইয়াং (Mr. Song Yang) চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের মান্যবর রাষ্ট্রদূত মি. ইয়াও ওয়েন (H.E. Mr. Yao Wen) উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (আরএইচডি), সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং চীন সরকারের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

প্রস্তাবিত ৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুটি পটুয়াখালী জেলার লেবুখালী–বাউফল–গলাচিপা–আমড়াগাছিয়া জেলা মহাসড়কের (জেড-৮৮০৬) ১৪তম কিলোমিটারে লোহালিয়া নদীর ওপর বগা ফেরিঘাটের ভাটিতে নির্মিত হবে। দীর্ঘদিন ধরে বাউফল, গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার লাখো মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা কৃষিপণ্য, মৎস্যসম্পদ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের জন্য বগা ফেরিঘাটের ওপর নির্ভরশীল। সেতুটি নির্মিত হলে এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত আরো সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে। প্রকল্পটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২ দশমিক ৬২ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ১ দশমিক ৩৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল সেতু এবং প্রায় ১ দশমিক ২৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মূল সেতু ও এপ্রোচ সড়ক নির্মাণে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন অনুদান হিসেবে প্রদান করবে চীন সরকার। অন্যদিকে ভূমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বহন করবে বাংলাদেশ সরকার।

চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী ধাপে চীন সরকারের মনোনীত প্রতিষ্ঠান সেতুর বিস্তারিত নকশা (Detailed Design) প্রণয়ন ও চূড়ান্তকরণের কাজ সম্পন্ন করবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে। ৯ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মিত হলে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। যাতায়াত ব্যয় ও সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, পণ্য পরিবহন সহজতর হবে এবং কৃষি, মৎস্য, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতের বিকাশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে সেতুটি দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930