• ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১১ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI) এর রূপরেখা বাস্তবায়নে National Data Center এ GPU Cloud এবং Platform-as-a-Service এর শুভ সূচনা

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৪, ২০২৬
ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI) এর রূপরেখা বাস্তবায়নে National Data Center এ GPU Cloud এবং Platform-as-a-Service এর শুভ সূচনা

বিডিসেট প্রকল্পের আওতায় দীর্ঘদিন অব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (GPU) কার্যকরভাবে ব্যবহার করে জাতীয় ক্লাউড সক্ষমতা জোরদার এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করতে জাতীয় ডাটা সেন্টারে Nutanix, PaaS Platform ও GPU ক্লাউড সেবার উদ্বোধন করা হয়েছে।

আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এই ক্লাউড সেবার উদ্বোধন করেন।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শুরুতে BCC এর ক্যাপাসিটি মারাত্নক পর্যায়ে ঘাটতি ছিল, যেমন CPU প্রায় ৮২%, এবং স্টোরেজ প্রায় ৭৮% অকুপাইড অবস্থায় ছিলো যা ডিজিটাল গভর্নেন্সের পথে একটি অন্তরায়। এমতাবস্থায় বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে বিশ্বব্যাংকের সাথে আলোচনার মাধ্যমে এবং বিসিসির অধীনে জাতীয় ডাটা সেটারে ক্যাপাসিটি ও বহুবিধ প্রয়োজনীয় ফিচার সংযোজন করা হয়েছে।

বিশেষ সহকারী আরও বলেন, আগে বিসিসির মনিটরিংগত দূর্বলতা প্রকট ছিল, ভার্চুয়াল মেশিনে এজেন্ট ইন্সটল করা না থাকার কারনে এটি নন ফাংশনিং হলেও নোটিফিকেশন পাওয়া যেত না বা ডায়াগনোসিসে অনেক সময় চলে যেত যাতে করে সার্ভিস ব্যহত হত। একই সাথে আপলিংকে মনিটরিং না থাকায় DDoS Attack বা BGP Protocol এর কারনে কোন ক্যাপাসিটি ক্রাঞ্চ হলে তা প্রোএকটিভলি বোঝা যেত না। এই বিষয়গুলো সতর্কতার সাথে এড্রেস করা হয়েছে এবং এখন বিসিসি অন্য যে কোন সময়ের তুলনায় অধিকতর গুণগত সার্ভিস প্রদানে সক্ষম ও বদ্ধ পরিকর।

বাংলাদেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ডাটা সেন্টারগুলো Silo বেসিসে তৈরি করা হয়েছে যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ন ফিচার যেমন Disaster Recovery, Cyber Security, DevOps বান্ধব এনভায়রনমেন্ট সাপোর্ট করে না। তদুপরি এগুলো জাতীয় ডাটা সেন্টারের সাথে ইন্টিগ্রেট করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় বিধায় দেশে মাইক্রো সার্ভিস আর্কিটেকচার সমৃদ্ধ ডিজিটাল সার্ভিস প্রায় শূন্যের কোঠায়। অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে কস্ট অপটিমাইজেশন, পারফরমেন্স, স্কেলেবিলিটি ইত্যাদি গুনগত ফ্লেক্সিবিলিটির জন্য মাইক্রো সার্ভিস আর্কিটেকচার এর চাহিদা বেড়েছে । দেশেও এই চাহিদা পুরনে ইতিপূর্বে জাতীয় ডাটা সেন্টারে কোন Container Service দেয়া যেত না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিশেষ সহকারী বলেন, আজ থেকে Platform as a Service (PaaS) লাইভ করে দেয়া হল যা একটি CNCF সার্টিফাইড Kubernetes প্ল্যাটফর্ম, যেখানে অটোমেশন ও ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস সমন্বিত রয়েছে এবং ডেভেলপার-বান্ধব পরিবেশে Source-to-Image (S2I), ডেভেলপার কনসোল, বিল্ট-ইন CI/CD পাইপলাইন ও নির্বিঘ্ন GitOps ইন্টিগ্রেশন সুবিধা প্রদান করে। প্ল্যাটফর্মটিতে বিল্ট-ইন ভলনারেবিলিটি স্ক্যানিংসহ ইন্টিগ্রেটেড কন্টেইনার রেজিস্ট্রি, সম্পূর্ণ DevSecOps সক্ষমতা (বিল্ড, ডিপ্লয় ও রান পর্যায়ে নিরাপত্তা), High Availability (HA) ও Disaster Recovery (DR) সমর্থন, ব্লক, অবজেক্ট ও ফাইল টাইপ স্টোরেজের জন্য বিল্ট-ইন স্টোরেজ সার্ভিস, Linux ও Windows উভয় কন্টেইনার সাপোর্ট, ইন্টিগ্রেটেড লগিং, মেট্রিক্স ও মনিটরিং সুবিধা এবং সার্ভিস মেশ ও সার্ভারলেসসহ উন্নত সার্ভিস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই দুটি প্লাটফর্মের মাধ্যেমে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ ২০২৫, এবং সাইবার সেফটি অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রতিপালন করা সহজতর হবে। ‘গুরুত্বপূর্ন তথ্য পরিকাঠামো’ অভিহিত ৩৫ টি এজেন্সি এর মাধ্যমে যথাযথ গাইডলাইন প্রতিপালনে সক্ষম হবে যা এই দেশের জন্য একটি অন্যতম মাইলস্টোন।

ইতিপূর্বে গাইডলাইন ছিল কিন্তু তা প্রতিপালনের সক্ষমতা জাতীয় ডাটা সেন্টারের ছিল না। প্রসংগত ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ ২০২৫, এবং সাইবার সেফটি অধ্যাদেশ ২০২৫ -এই তিনটি আইনের মাধ্যমে দেশে নাগরিকের উপাত্ত চুরি একটি অপরাধ হিসেবে গন্য হবে। আমরা আশা করছি এর মাধ্যমে Cloud First এবং Cross Border উপাত্ত ব্যবস্থাপনা মেনে চলে একটি নাগরিক বান্ধব ইকোসিস্টেম দ্রুত সময়ের মধ্যেই বেড়ে উঠবে যেখানে আমাদের Cloud Native Capacity, Containerized CLoud, CDN ইত্যাদির প্রয়োজন হবে। আমরা মেজর ইন্টারনেট ট্রাফিক প্রভাইডার কোম্পানি ‘মেটা’ কে অনুরোধ জানিয়েছি যেন তারা এখন দেশে তাদের ডাটা সেন্টার স্থাপন করে এতে করে নাগরিকের কাছে ইন্টারনেট সাশ্রয়ী মূল্যে দেয়া যাবে এবং এর ব্রাউজিং এর কোয়ালিটি বৃদ্ধি পাবে।

এরই পাশাপাশি আমরা বিদ্যমান রিসোর্স অপ্টিমাইজেশনে মনোযোগী হয়েছি। বিশ্বজুড়ে চিপ ম্যানু ফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রি বেশ চ্যালেঞ্জিং সময় পার করছে অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে বৈশ্বিক সাপ্লাই মেইন্টেইন করতে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি, দেশীয় কারেন্সির অবমূল্যায়ন ইত্যাদির কারনে আমাদের সতর্ক দৃষ্টি দিতে হয়েছে CPU রিসোর্স অপ্টিমাইজেশনের উপর। এ লক্ষ্যে বিসিসি প্রায় হাজারটির ও বেশি ভার্চুয়াল সিপিইউ (vCPU) বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। দেশে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণা, Generative AI, মেশিন লার্নিংভিত্তিক Skill Development ত্বরান্বিত করতে Bangladesh HiTech Park Authority (BHTPA), ২০টির অধিক NVIDIA Volta Architecture Tensor Core GPU একটি Cloud Resource Management Platform এর মাধ্যমে ইন্টিগ্রেট করে আজ উন্মুক্ত করছে। সরকারি খাতে এ ধরনের শেয়ারএবল ক্লাউড ফেসিলিটি এটাই প্রথম। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (BCC) এর ন্যাশনাল ডেটা সেন্টার টিম এই ক্লাউড ফ্যাসিলিটি রক্ষণাবেক্ষণ করবে। এই অবকাঠামোর মাধ্যমে Machine Learning ভিত্তিক ডেটা সেট ট্রেনিং, Threat Intelligence, Geo-science Modeling সহ বিভিন্ন High Performance Computing কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হবে, যা প্রায় ৯০০ টিরও বেশি CPU সমতুল্য কম্পিউটেশন সক্ষমতা প্রদান করবে (স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী ১টি GPU ≈ ৪৫টি CPU)। সম্মিলিতভাবে এই ক্লাউড সর্বোচ্চ ২,২৪০ teraFLOPS Deep Learning Capacity অফার করতে সক্ষম। যারা ছোটখাটো এআই মডেল সিমুলেশন এবং ট্রেইন করতে চান, ইনফারেন্স টেস্ট করতে চান, জিপিইউ বরাদ্দ প্রাপ্তির জন্য আগ্রহী গবেষক, গেমিং কোম্পানি, ও শিক্ষার্থীরা নিন্মোক্ত ঠিকানায় আবেদন করতে পারবেন: datacenter@bcc.gov.bd

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও বলেন, এভাবে আমরা সমন্বিতভাবে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের দিকে একধাপ এগিয়ে যাচ্ছি। ইতিপূর্বে সরকার পোর্টাল সমৃদ্ধ ডিজিটাল সার্ভিস একের পর এক গড়ে তুললেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং এজেন্সিদের মধ্যেকার আন্তঃসমন্বয় এর দিকে মনোনিবেশ করেনি। কেননা এজেন্সিগুলোর স্বদিচ্ছা থাকা স্বত্ত্বেও যেহেতু উপাত্ত সুরক্ষার কল্পে কোন রেস্পন্সিবল ইন্টারপারেবল এক্সচেঞ্জ (NRDEx) তৈরি হয়নি সেহেতু নাগরিকরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফ্রাগমেন্টেড ডিজিটাল সার্ভিসের মাধ্যমে হেনস্থা হয়েছেন।

আমরা এক্ষেত্রে ইন্টারপারেবিলিটির মাধ্যমে একটি ডিজিটাল কানেক্টিভিটি হাইওয়ে তৈরি করতে মনোযোগী হয়েছি। এই কাজটি আমরা করেছি চারটি (৪) ধাপে – লিগাল ফ্রেমওয়ার্ক -যেমন জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর মাধ্যমে ইন্টারঅপারেবিলিটি ম্যান্ডেটেড করা হয়েছে, একই সাথে সোর্স কোড বিসিসি/গিটহাবের মাধ্যমে রিপোজিটরি মেইন্টেইন করা, a2i তে DevOpS সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিদ্যমান আইডেন্টিফিকেশন এর ডাটা একুরেসি অত্যন্ত নিম্মানের হওয়াতে নাগরিকরা প্রায়শই কারেকশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেতে হয় – যেমন নিজের নাম ভুল, পিতা/মাতার নাম ভুল, জন্মতারিখ ভুল, ইত্যাদি। অর্থাৎ এখনকার নাগরিকের তথ্য দিয়ে সঠিকভাবে রিলায়েবলি নাগরিককে আইডেন্টিফাই করা একটি দুরূহ কাজ। এটি আরো কমপ্লেক্স হয়ে যায় যখন এক এজেন্সি আরেক এজেন্সির ভুল তথ্যের উপর বেজড করে তাদের নিজস্ব একটি আইডেন্টিটি তৈরি করে। এ বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এবং বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় “ডিজিটাল সরকার ও অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ প্রকল্প”-এর আওতায় এই অবকাঠামো স্থাপন করা হয়েছে।

এজ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডঃ মো: তৈয়বুর রহমান রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, বিশ্ব ব্যাংকের কো- টাস্ক টিম লিডার এবং ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট স্পেসালিস্ট সুপর্ণা রায় সহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং দপ্তর সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

July 2026
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031