গতকাল শনিবার ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রি. দিবাগত রাতে নৌ পুলিশ চট্টগ্রাম অঞ্চলের পুলিশ সুপার জনাব আ. ফ. ম. নিজাম উদ্দিন, পিপিএম (বার) এর নির্দেশনায় ওই অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব বিজয়া সেন এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে একই অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার জনাব সাঈদ ইবনে রেজা এর নেতৃত্বে এসআই(নিঃ) মুহাম্মদ আরিফুল আলম, এসআই বিকাশ সাহা ও সঙ্গীয় অফিসার ফোর্সসহ অভিযান পরিচালনা করে চট্টগ্রাম কোতোয়ালী থানাধীন পুরাতন ফিসারী ঘাটের ০১ নম্বর লোহার ব্রীজের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে পাশাপাশি নোঙরকৃত দুটি ফিশিং বোটে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আসামী ১। মোঃ আসিফ উদ্দিন @ তামিম (২২), ২। মোঃ ফাহাদ আহাম্মদ (২০), ৩। তাপস ধর (২৫), ৪। পরিমল সাহা (৪৮), ৫। মোঃ নবী (২৮), ৬। মোঃ রাজিব (২৫), ৭। মোঃ হৃদয় (২০) কে গ্রেফতার করলেও পুলিশি উপস্থিতি টের পেয়ে ১০/১১ জন ব্যক্তি পালিয়ে যায়। ধৃত আসামিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় যে, বোটের মালিক এবং মাঝি হরি চন্দ্র দাস এর উপস্থিতি ও তার নেতৃত্বে ধৃত এবং পলাতক সকল আসামীরা বোটে অবস্থান পূর্বক ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহণ করছিল। পলাতক আসামিদের মধ্যে হরি চন্দ্র দাসসহ আসামী সালাউদ্দিন (৩০), মানিক (৪৫), নিরঞ্জন দাস (৪০), রুবেল (২৮) এবং নিজাম (৫২) সহ আরো অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন আসামি ছিল। উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে দুটি ফিশিং বোট এবং ফিশিং বোটের ইঞ্জিনের রুমে থাকা গোপন স্থানে তল্লাশী করে ধৃত আসামিদের দেখানো ও বের করে দেওয়া মতে ০১টি ফিশিং বোট হতে ০২টি রাম দা, ০২টি লোহার হাতলযুক্ত দা, ০১টি লোহার তলোয়ার, ০১টি লোহার তৈরী বর্ষা সদৃশ বল্লম এবং অপর ০১টি ফিশিং বোট হতে বিভিন্ন সাইজের ০৭টি লোহার রড, ০৬টি লোহার হাতলযুক্ত দা, ০১টি কাঁচি, ০১টি শাবল, ০১টি লোহার তৈরী হুক, ০২টি ফিশিং বোট উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামিরা আরো জানায়, তারা ইতোপূর্বে সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুমিরা চ্যানেলের বঙ্গোপসাগরসহ চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, কর্ণফুলী, কোতোয়ালী ও বাকলিয়া থানা এলাকার কর্ণফুলী নদীতে সাগর হতে আগত বিভিন্ন ফিশিং বোট টার্গেট করে ডাকাতি সংঘটন করেছে। তারা সাগরে নামমাত্র ফিশিং করার জন্য বোট নিয়ে বের হয়। কিন্তু প্রকৃত অর্থে তারা ফিশিং না করে মাঝি হরি চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে বিভিন্ন ফিশিং বোট আটকিয়ে অস্ত্রশস্ত্র প্রদর্শন করে বোটে থাকা বিভিন্ন ধরণের মাছ, জাল, ষ্টাফদের মোবাইলসহ মূল্যবান জিনিসপত্র এবং নগদ টাকা পয়সা ডাকাতি করে নিয়ে নেয়। ধৃত এই সাতজন আসামিদের কাছ থেকে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনান্তে অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার দিন রাতেই নৌ পুলিশ চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার জনাব সাঈদ ইবনে রেজা এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় অফিসার ফোর্সের সহায়তায় চট্টগ্রাম সদরঘাট থানাধীন সদরঘাট রোডস্থ “গোল্ডেন ষ্টার” নামক আবাসিক হোটেল হতে পলাতক মূল আসামি হরি চন্দ্র দাস (৪০) কে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত ও পলাতক সকল আসামিরাই তার ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য এবং তারা পরস্পর যোগসাজশে সাগরে এবং নদীতে ক্রমাগত ছিনতাই ও ডাকাতি সংঘটন করে থাকে বলে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়।
পরবর্তীতে আসামি হরি চন্দ্র দাস এর দেওয়া তথ্য মতে তার বহনকৃত কাঁধের ব্যাগ হতে ১টি চাইনিজ কুড়াল, লুন্ঠিত বিভিন্ন মডেলের ৬টি এন্ড্রয়েড এবং ৪টি বিভিন্ন মডেলের বাটন মোবাইল সেট ও ৬টি রকেট প্যারাস্যুট ফ্লেয়ার উদ্ধারপূর্বক জব্দ করা হয়। ধৃত আসামিরা সকলেই রকেট প্যারাস্যুট গুলো বর্ষণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সাগর ও নদীতে থাকা বিভিন্ন ফিশিং বোটে ডাকাতি ও ছিনতাই করে থাকে এবং তারা ইতোপূর্বে বেশ কয়েকটি ফিশিং বোটে ডাকাতি করেছে বলে নৌ পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে।
চট্টগ্রাম সদরঘাট নৌ থানার এসআই মুহাম্মদ আরিফুল আলম অপু বাদী হয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করলে চট্টগ্রাম কোতোয়ালী থানার মামলা নং-১৭, ধারা- ৩৯৯/৪০২ দন্ডবিধি মোতবেক মামলা রুজু হয়। বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে আসামীদের জেলহাজতে প্রেরণ প্রক্রিয়াধীন।