র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক নির্মূলের পাশাপাশি চাঞ্চল্যকর ও ক্লু-লেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায়, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে অটোরিকশা চালক সাগর @ আপেল মিয়া (২৭) হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত পলাতক আসামি মোঃ লতিফ (৩৯)’কে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত ০০৪০ ঘটিকায় র্যাব-৩ ও র্যাব-৫ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল নাটোর জেলার সিংড়া থানাধীন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসামি মোঃ লতিফ (৩৯) (পিতা- মৃত মুছা, গ্রাম- মাদারের চর, দেওয়ানগঞ্জ, জামালপুর)-কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাতে আসামি মোঃ লতিফ ও তার সহযোগী রিপন মিয়া পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ভিকটিম সাগরকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পথিমধ্যে দেওয়ানগঞ্জ থানাধীন পোল্যাকান্দি এলাকায় একটি পরিত্যক্ত কৃষি ক্ষেতে নিয়ে রিপন ও লতিফ তাদের কাছে থাকা গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে সাগরের মৃত্যু নিশ্চিত করে এবং তার অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ধরা পড়ার ভয়ে তারা অটোরিকশাটি অন্য জায়গায় ফেলে রেখে আত্মগোপন করে।
নিখোঁজের তিন দিন পর ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকালে দেওয়ানগঞ্জের মদনেরচর এলাকার একটি আখক্ষেত হতে সাগরের বিকৃত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের শরীরের একাংশ শিয়াল বা বন্য প্রাণী খেয়ে ফেলায় ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ: গ্রেফতারকৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ভাড়া সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতা ও ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে তারা পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে। ইতিপূর্বে এই মামলার অপর সহযোগী আসামি রিপন মিয়াকেও র্যাব গ্রেফতার করেছিল।
গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ লতিফ’কে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।