‘জয় বাংলা’ শুধু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্লোগান নয়। এই স্লোগান দিয়েই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পাকিস্তানের বিরূদ্ধে বাঙালির স্বাধিকারের আন্দোলন শুরু হয়েছিলো। ‘৬৬ এর ৬ দফা আন্দোলন, ‘৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ‘৭০ এর নির্বাচন এবং ‘৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ সবই হয়েছিলো ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে ধারণ করে। রণাঙ্গনে এই স্লোগান মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করতো, উজ্জীবিত করতো। যেই স্লোগান শুনে এখনো স্বাধীনতার স্বপক্ষের মানুষের মনে শিহরণ জাগে। একমাত্র পাকিস্তানের আদর্শে যারা অনুপ্রাণিত ছিল তারাই এই স্লোগানটি অপছন্দ করতো। এই স্লোগান তাদের মনে আতংক ছড়াতো। এই স্লোগান নিষিদ্ধের জন্য পাকিস্তানী ভাবধারায় বিশ্বাসীরা অনেকবারই চেষ্টা করেছে। এই স্লোগান বাতিলের রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো এই বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানী আদর্শের জঙ্গিদের হাতে জিম্মি। এই বাংলাদেশ এখন আর স্বাধীনতায় বিশ্বাসী কোনো সরকারের হাতে নেই।
গত ৪ মাসে আমরা লক্ষ্য করেছি এই সরকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। জনকল্যাণকর কোনো কাজ বা আইন করেননি, দেশের উন্নয়নমূলক কোনো কর্মকান্ড হাতে নেয়নি। বরং তাদের সমস্ত আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলা, স্বাধীনতার ইতিহাসকে মুছে ফেলার দিকে, দেশকে জঙ্গিবাদের আস্তানা বানানোর দিকে। ড. ইউনূসের ঘোষিত রিসেট বাটন পুশের মাধ্যমে দেশের মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত ইতিহাসকে মুছে ফেলার চেষ্টাটাই দিন দিন আরো স্পষ্ট হচ্ছে।
এই রায়ের বিরূদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।