ঢামেকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে মরদেহ ফেলে পালিয়ে যাওয়া সেই ‘ভুয়া স্বামী’ নয়ন গ্রেফতার
স্বামী পরিচয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফেলে যাওয়া রাশেদা বেগম (২২)’কে শ্বাসরোধ করে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার এজাহারভূক্ত প্রধান আসামি ১। মোঃ আশরাফুল ইসলাম @ নয়ন (২৪)’কে টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর থানাধীন এলাকা হতে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। অপহরণ, হত্যা, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, জাল নোট ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, মানব পাচারকারী, প্রতারক এবং বিভিন্ন মামলার মৃত্যুদন্ড ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেফতার করে সাধারন জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর থানাধীন শুভেচ্ছা ক্লিনিক এর সামনে হতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে স্বামী পরিচয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফেলে যাওয়া রাশেদা বেগম (২২)’কে শ্বাসরোধ করে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার এজাহারভূক্ত প্রধান আসামি ১। মোঃ আশরাফুল ইসলাম @ নয়ন (২৪), পিতাঃ মোঃ মতিয়ার রহমান, সাং-পুখরিয়া, থানাঃ মাগুরা সদর, জেলাঃ মাগুরা’কে র্যাব-১৪ এর সহায়তায় গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৩।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, ভিকটিম রাশেদা বেগম (২২), পিতাঃ মৃত আবু বক্কর সিদ্দিক, সাং- পুখরিয়া, থানাঃ মাগুরা সদর, জেলাঃ মাগুরা পেশায় একজন গার্মেন্টস কর্মী। ভিকটিম রাজধানীর মিরপুর মডেল থানাধীন সুরুজখান বাজার আনসার ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করে গার্মেন্টস এর চাকুরী করে আসছে। ভিকটিম এবং ধৃত আসামি মোঃ আশরাফুল ইসলাম একই গ্রামের বাসিন্দা এবং তাদের মাঝে দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে গত ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ২১:৩০ ঘটিকার সময় ধৃত আসামী মোঃ আশরাফুল ইসলাম ভিকটিমের বসবাসরত এলাকায় গিয়ে ভিকটিম রাশেদা বেগম (২২)’কে রাজধানীর তেজগাঁও থানাধীন পশ্চিম তেজতুরীবাজারস্থ, ৪৮, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ হাশেম ম্যানশনের ৬ষ্ঠ তলায় নিয়ে যায়। ভিকটিম এবং ধৃত আসামি ৪৮, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ হাশেম ম্যানশনে একই সাথে দুইদিন ঘনিষ্ঠভাবে অবস্থান করেন। পরবর্তীতে ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ আনুমানিক বিকাল ১৬৫০ ঘটিকার সময় হাশেম ম্যানশন হতে ধৃত আসামি আশরাফুল তাড়াহুড়ো করে ভিকটিম রাশেদা বেগম (২২)’কে সিএনজি যোগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে যায়। জরুরী বিভাগের চিকিৎসকে ধৃত আসামি ভিকটিম এর স্বামী বলে পরিচয় দিয়ে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
উল্লেখ্য যে, ভিকটিমের পরিবার ভিকটিমকে ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ হতে বাসায় না পাওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে জানতে পারে যে, ভিকটিম এবং ধৃত আসামি ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ২১০০ ঘটিকার সময় একটি দোকানের সামনে দেখা করতে আসলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাদের মাঝে ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই ভিকটিম রাশেদা নিখোঁজ ছিল ও তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। ভিকটিমের পরিবার তার কোন সন্ধান না পেয়ে রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
পরবর্তীতে ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ ভিকটিম এর পরিবার বিভিন্ন মাধ্যম হতে জানতে পারে যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে অজ্ঞাতনামা একজন নারীর মরদেহ রয়েছে। এ ব্যাপারে তেজগাঁও থানা পুলিশের সহায়তায় ভিকটিমের পরিবার ভিকটিম রাশেদা বেগমের পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ ০১টি হত্যা মামলা রুজু হলে র্যাব-৩ এর গোয়েন্দা টিম কর্তৃক ছায়া তদন্ত শুরু করে র্যাব-১৪ এর সহায়তায় ধৃত আসামি’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।ধৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।