কক্সবাজার জেলার শহরের বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন পল্লান কাটা এলাকায় সেপটিক ট্যাংক নির্মাণে চাঁদা না দেয়ায় গণেশ পাল (৪০) নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) বেলা ২টার দিকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত গণেশ পাল ওই এলাকার বিশ্বনাথ পালের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গণেশ পালের বাড়িতে একটি সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের কাজ চলছিল। শুক্রবার রাতে স্থানীয় রাজমিস্ত্রি জাকির হোসেনের ছেলে জিদান গণেশ পালের দোকানে গিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। গণেশ চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে শনিবার দুপুরে জিদান ও তার সহযোগীরা গণেশের বাড়িতে হামলা চালায়।
নিহতের স্ত্রী নেপালী পাল সাংবাদিকদের জানান, তার চোখের সামনেই জিদান ও তার সহযোগীরা গণেশকে বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের চাচাতো ভাই বাপ্পী পাল এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এদিকে ঘটনার পর এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
কক্সবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর উদয় শংকর পাল মিঠু
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত না করলে সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।” তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।আর ও নিন্দা জানান কক্সবাজার পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন দাশ সাধারণ সম্পাদক জনি ধর।তারা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছমি উদ্দিন জানান, বাড়ির কাজ চলাকালে টাকা দাবি নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।