• ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৩ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত মার্চ ১, ২০২৬
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আজ রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মৃত্যুবরণ করেছেন। গত শনিবার তেহরানে পরিচালিত একটি হামলায় তিনি নিহত হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। এই মৃত্যুতে ইরানজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরান ব্রডকাস্টিং’ (IRIB) এক শোকবার্তায় সর্বোচ্চ নেতার শাহাদাত বরণের কথা নিশ্চিত করে। এই ঘোষণার পরপরই দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং রাষ্ট্রীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার সকালে তেহরানে অবস্থিত নিজ কার্যালয়ে এক হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ইরানের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক ছিলেন। এছাড়া দেশটির বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (IRGC), পুলিশ এবং মোরাল পুলিশের ওপরও তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। ১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে জন্মগ্রহণকারী খামেনি ইরানের রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

ইরানের বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার পদ শূন্য হওয়ায় দেশটির ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’ (Assembly of Experts) পরবর্তী নেতা নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু করবে। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এই সংকটকালীন সময়ে ইরানের শাসন ব্যবস্থা ও পরবর্তী করণীয় নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।