অস্ট্রেলিয়া,ইউরোপসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে জাল ভিসা তৈরি করে প্রতারণা ও মানবপাচারকারী চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার এবং ভিসা তৈরীর ডিভাইস ও বিপুল পরিমাণ জাল ভিসা জব্দ করেছে র্যাব-৪
অস্ট্রেলিয়া,ইউরোপসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে জাল ভিসা তৈরি করে প্রতারণা ও মানবপাচারকারী চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার এবং ভিসা তৈরীর ডিভাইস ও বিপুল পরিমাণ জাল ভিসা জব্দ করেছে র্যাব-৪
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত মার্চ ৩০, ২০২৬
১। ”বাংলাদেশ আমার অহংকার” স্লোগান নিয়ে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠাকাল থেকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ নির্মূল ও মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ২। র্যাব সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূলের পাশাপাশি বিভিন্ন সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য সদা সচেষ্ট। ইতিপূর্বে চায়না ও রাশিয়াতে চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে মানব পাচারকারী সংঘবদ্ধ চক্রকে গ্রেফতার করে র্যাব-৪ এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৪ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ঢাকা মহানগরীর কারওয়ান বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অস্ট্রেলিয়া,ইউরোপসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে জাল ভিসা তৈরি করে প্রতারনা ও মানবপাচারকারী চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার এবং ভিসা তৈরীর ডিভাইস ও বিপুল পরিমাণ জাল ভিসা জব্দ করে। গ্রেফতারকৃতরা হলোঃ ১। মোঃ সাকিউর রহমান@ সুমন (৩৭) ২। মোঃ কোরবান আলী(৩০)। ৩। মামলার এজাহার ও গ্রেফতারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ভিকটিম তার এক পূর্ব পরিচিত আত্মীয়ের মাধ্যমে জানতে পারে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা “এসআরএস ইন্টারন্যাশনাল বিডি” নামক ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে বৈধভাবে লোক পাঠায় এবং তাদেরকে সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়। আসামী সুমন ভিকটিমকে ২০ লক্ষ টাকার চুক্তিতে অস্ট্রেলিয়াতে চাকুরীর প্রস্তাব দেয়। ভিকটিম সরল বিশ্বাসে তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়। পরবর্তীতে ভিকটিম আসামীদেরকে বিভিন্ন সময়ে সর্বমোট ১৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নগদ ও ব্যাংকের মাধ্যমে প্রদান করে। ৪। টাকা পাওয়ার পর আসামীরা ভিকটিমকে অল্পদিনের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার ভিসা প্রদান করবে বলে জানায় এবং Ò Australia Group” নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করে। গত ২২ মে ২০২৫ তারিখ আসামীরা ভিকটিমকে “ভিএফএস গ্লোবাল” নামক একটি অফিসে নিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে এবং অস্ট্রেলিয়ার ভিসা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্তে কয়েকটি কাগজ প্রদান করে। এরপর থেকে আসামীরা ভিকটিমকে বিভিন্ন তারিখে একাধিকবার প্লেনের টিকেট প্রদানের কথা বললেও তা না দিয়ে বারংবার তারিখ পরিবর্তন করতে থাকে। এক পর্যায়ে আসামীরা ভিকটিমকে প্লেনের টিকেট বাবদ অরো ৯৬ হাজার প্রদান করতে বাধ্য করে। তখন ভিকটিম নিরুপায় হয়ে বিকাশের মাধ্যমে তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করে। পরবর্তীতে ভিকটিমকে একাধিকবার বিভিন্ন তারিখে প্লেনের টিকেট প্রদান করবে বলে ঘুরাতে থাকে। তখন ভিকটিমের সন্দেহ হওয়ায় আসামীদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করে দেখা করিতে চায় কিন্তু আসামীরা দেখা করতে সম্মত হয় না। ৫। পরবর্তীতে ভিকটিম নামক Australia Group হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অন্যান্য সদস্যদের সাথে কথা বলে জানতে পারে যে, গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয় আরো বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিদেশ চাকুরী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের নিকট হতে বিপুল পরিমানের অর্থ আত্মসাৎ করেছে। পরবর্তীতে ভিকটিম আরো জানতে পারে আসামিগণ প্রতারক চক্রের সদস্য এবং তাদের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে উপরোক্ত টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়াও টাকা ফেরত প্রদানে কথা বললে বিভিন্ন ভয় ভীতি ও হুমকি প্রদান করে তাড়িয়ে দেয়। উক্ত ঘটনায় ভিকটিম আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করে। ৬। র্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল উক্ত ঘটনার বিষয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করেন এবং ছায়াতদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে ৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদ্বয়ের অবস্থান সনাক্ত করে ঢাকা মহানগরীর কারওরান বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।
আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার মাধ্যমে অনেক বাংলাদেশীদের ইউরোপ,অস্ট্রেলিয়াসহ উন্নত দেশে প্রেরণ করার নামে টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। ৫। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।