• ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

বাংলাদেশ-আমেরিকা মৈত্রী প্রকল্প স্থানীয় ১৮টি এনজিওকে ৮৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা অনুদান

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত নভেম্বর ১৩, ২০২৪
বাংলাদেশ-আমেরিকা মৈত্রী প্রকল্প স্থানীয় ১৮টি এনজিওকে ৮৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা অনুদান

বাংলাদেশ-আমেরিকা মৈত্রী প্রকল্পের পক্ষ থেকে স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করছে এমন ১৮টি বেসরকারি সংস্থাকে (এনজিও) প্রথম বছরের (২০২৪ অর্থবছর) জন্য অনুদান হিসেবে ৮৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা (৭.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) প্রদান করা হয়েছে। ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে ব্র্যাক এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

মৈত্রী প্রকল্পের আওতায় অনুদান পাওয়া সংস্থাগুলোর কার্যকরী দক্ষতা বাড়ানোর সক্ষমতা উন্নয়নেও সহায়তা করা হবে। অনুদানপ্রাপ্ত স্থানীয় এনজিওগুলো কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিশু অধিকার ও সুরক্ষাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করছে। নির্বাচিত এনজিওগুলোকে তাদের উদ্ভাবনী কর্মপদ্ধতি ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা ও প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে বাছাই করা হয়েছে।

বুধবার, ১৩ই নভেম্বর ২০২৪ রাজধানীর হোটেল শেরাটনে অনুষ্ঠিত ‘গ্রান্টস অ্যাওয়ার্ড সেরেমনি’-তে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান; সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএসএআইডি’র বাংলাদেশ মিশন ডিরেক্টর রিড অ্যাশলিম্যান এবং ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে হলে, আমাদের আগে এনজিওগুলোর অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টিকারী প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে হবে। এনজিও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা, পাশাপাশি, অর্থপ্রাপ্তির পথ সহজ করলে স্থানীয় সংস্থাগুলো আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই উন্নয়নের দৃশ্যপট তৈরি হবে।

এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান বলেন, আমাদের প্রতিশ্রুতি শুধু অর্থায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আমরা এনজিওগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছি; বিশেষ করে দাতাদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে। এতে প্রকল্পগুলো আরও টেকসই হবে এবং তাদের বাস্তবায়ন শেষেও স্থানীয় জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে।

ইউএসএআইডি বাংলাদেশ মিশন ডিরেক্টর রিড অ্যাশলিম্যান বলেন, ইউএসএআইডিতে আমরা আমাদের মূল্যবোধকে সামনে রেখে কাজ করি। স্থানীয় সংস্থাগুলোর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করছি এবং ২০৩১ সালের মধ্যে একটি উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করছি। আমরা আমাদের যৌথ প্রচেষ্টায় এই লক্ষ্য বাস্তবে রূপ দেব এবং একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলার চেষ্টা করব।

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, মৈত্রী প্রকল্প প্রচলিত সহায়তা মডেল থেকে ভিন্ন একটি ধারা তৈরি করেছে, যেখানে স্থানীয় প্রেক্ষাপটে তৈরি কার্যকর সমাধানগুলো বাস্তবায়ন ও টেকসই করতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আমরা সেই

সংস্থাগুলোর পাশে দাঁড়াচ্ছি-যারা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে কাছাকাছি, যেন উন্নয়ন কার্যক্রম স্থানীয় চাহিদা এবং সমস্যাগুলোকে ভালোভাবে সমাধান করতে পারে।

মৈত্রী প্রকল্পের প্রথম পর্বে অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে পরিবেশগত প্রতিকূলতার ভিত্তিতে কিছু অঞ্চলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে খরাপ্রবণ রাজশাহী ও রংপুর; হাওর অঞ্চলের মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ এবং উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে খুলনা ও বরিশালকে বেছে নেওয়া হয়। নির্বাচিত স্থানীয় এনজিওগুলো এই এলাকাগুলোর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করবে।

মৈত্রী প্রকল্পটি ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে পরিচালিত একটি পাঁচ বছর মেয়াদি উদ্যোগ, যা এফএইচআই৩৬০ এবং ব্র্যাক ইউএসএ-এর সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করছে ব্র্যাক। প্রকল্পটি স্থানীয় পর্যায়ের এনজিওগুলোর উদ্ভাবনী সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাদের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। কৃষি, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষাসহ অগ্রাধিকার খাতগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে এই প্রকল্প বাংলাদেশের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাবের জন্য কাজ করছে। স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে একত্রে কাজের মাধ্যমে মৈত্রী প্রকল্পটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধশালী একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে এবং দেশের উন্নয়নের বৃহত্তর লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সংহতি বজায় রেখে কাজ করবে।

November 2026
S S M T W T F
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930