নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লায় সন্ত্রাসী রাজ্জাক বাহিনী কর্তৃক পুলিশের উপর অতর্কিতভাবে গুলি বর্ষণ করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করতঃ সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাথে জড়িত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোঃ রাজ্জাক ওরফে রেজ্জাক (৪৬) ও তার সহযোগী মোঃ সোহেল মিয়া (২৯)’কে ঢাকা মহানগরীর রমনা থানাধীন এলাকা হতে গ্রেফতার করেছে র্যাব
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। অপহরণ, হত্যা, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, জাল নোট ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, মানব পাচারকারী, প্রতারক এবং বিভিন্ন মামলার মৃত্যুদন্ড ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেফতার করে সাধারন জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায়, ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখ ১৮২৯ ঘটিকার সময় ঢাকা মহানগরীর রমনা থানাধীন সেগুন বাগিচা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ফতুল্লায় সন্ত্রাসী রাজ্জাক বাহিনী কর্তৃক পুলিশের উপর অতর্কিতভাবে গুলি বর্ষণ করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করতঃ সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাথে জড়িত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোঃ রাজ্জাক ওরফে রেজ্জাক (৪৬), পিতাঃ মৃত এরশাদ, সাং-ইসদাইর জামতলা চাঁনমারী বস্তি, থানাঃ ফতুল্লা, জেলাঃ নারায়ণগঞ্জ ও তার সহযোগী মোঃ সোহেল মিয়া (২৯), পিতাঃ আইয়ুব আলী, সাং-আমিনপুর, থানাঃ সোনারগাঁও, জেলাঃ নারায়ণগঞ্জ’দ্বয়কে র্যাব-১১ এর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৩।
মামলার নথি অনুযায়ী জানা যায় যে, ধৃত রাজ্জাক নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন এলাকার রাজ্জাক বাহিনীর মুলহোতা এবং ধৃত সোহেল তার অন্যতম সহযোগী। গত ১৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখ ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আজিজুর রহমান এর নেতৃত্বে অবৈধ অস্ত্র, মাদক উদ্ধার ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করার সময় ১৪১০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, ফতুল্লা থানার অন্তর্গত চাষাড়া রেল স্টেশনের পশ্চিম পাশে জনৈক মাওলানা আব্দুর রহমানের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার উপর মাদক কতিপয় ব্যবসায়ীরা আধিপত্য বিস্তারের জন্য আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অবস্থান করছে এবং স্থানীয় জান মালের নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ১৪৩০ ঘটিকার সময় বর্ণিত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হইলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ধৃত আসামিদ্বয় ও সহযোগীরা পিস্তল দিয়ে পুলিশের উপর গুলি বর্ষণ ও রেল লাইনের পাথর নিক্ষেপ করে। গ্রেফতারকৃত আসামি ও সহযোগীদের ধৃত করার চেষ্টাকালে আসামিরা বেআইনি জনতাবদ্ধে পুলিশের সরকারী কর্তব্যে বাধা প্রদান ও পুলিশের উপর অতর্কিত হামলা করে। ধৃত আসামিদের হামলায় ও রেললাইনের পাথরের আঘাতে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। উক্ত ঘটনায় ঘটনাস্থল হতে ০৩ জন সন্ত্রাসীকে ধৃত করা হলেও অন্যান্য আসামিরা কৌশলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য ফতুল্লা মডেল থানা কর্তৃক র্যাব-১১ বরাবর অধিযাচন প্রেরণ করা হলে র্যাব-১১ আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরবর্তীতে র্যাব-১১ এর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধৃত রাজ্জাক ও সোহেল’কে রাজধানীর রমনা থানাধীন এলাকা হতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৩।
ধৃত আসামিদ্বয়ের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।