• ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউসবোট ‘রাজহংস’ দখলের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত জুন ২৭, ২০২৫
টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউসবোট ‘রাজহংস’ দখলের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

সিলেট ব্যুরো:

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় পৈত্রিক নিবাস হলেও মায়ের চাকরির সুবাধে দীপংকর চৌধুরী বর্তমানে টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা। সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটন ব্যবসায়ী আগ্রহী হয়ে দীর্ঘ প্রায় দুই বছরের প্রচেষ্টায় পর্যটকদের জন্য নান্দনিক ডিজাইনে নির্মাণ করেছেন ‘রাজহংস’ নামের একটি হাউসবোট। কিন্তু তার সেই হাউসবোটটি এখন অবৈধভাবে দখল করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা মমিনুল হক বেনুর বিরুদ্ধে। তিনি মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক।

জানা গেছে, দীপংকর চৌধুরী স্থানীয়ভাবে মিয়া নামের এক শ্রমিকের দায়িত্বে হাউসবোট তৈরির কাজ শুরু করলেও দায়িত্বে অবহেলা ও হিসাবে গড়মিল থাকার কারণে পরবর্তীতে তিনি মিয়াকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন। সর্বশেষ তিনি বোটটির দায়িত্ব দেন ফুল মিয়া নামের শ্রমিকের কাছে। আর সেই নেয়েই মিয়ার সাথে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এরপরেই সেই দ্বন্দ্বে শরিক হন বিএনপি নেতা মমিনুল হক বেনু। এতে বাঁধে বিপত্তি। সৃষ্ট সমস্যা নিরসনে এসে উলটো শৌখিন পর্যটন উদ্যোক্তা দীপংকর চৌধুরীর শখের সেই হাউসবোট ‘রাজহংস’ দখল করেন মমিনুল হক বেনু।

দীপংকর চৌধুরীর অভিযোগ, মমিনুল হক বেনু দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হাউসবোটটি দখলে নিতে নানা অপকৌশল চালাচ্ছিলেন। সম্প্রতি মধ্যনগর থানার ওসির নাম ব্যবহার করে ফুল মিয়াকে থানায় ডেকে এনে বেনু মিয়ার লোকজন বোটটি বুঝে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। এর ঠিক পরদিনই মমিনুল হক বেনু তার লোকজন নিয়ে এসে জোরপূর্বক বোটটি দখল করে নেয় এবং দীপংকর চৌধুরীর দেয়া ‘রাজহংস’ নাম পরিবর্তন করে বিএনপি নেতা বেনু নিজের নাম সম্বলিত মালিকানা উল্লেখ করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন।

হাউসবোটটির প্রকৃত মালিক দাবি করা দীপংকর চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, ‘আমার নৌকাটির মালিকানার সাথে একাধিক অংশীদার জড়িত। তবে অবৈধভাবে মমিনুল হক বেনু নামে একজন বিএনপি নেতা সেটি দখল করে নিয়েছেন। আমাকে কিংবা আমার অংশীদারদের কাউকেই সেই হাউসবোটের ধারে কাছেও ভিড়তে দিচ্ছেন না। উল্টো হাউসবোটটি নাকি আমি তার কাছে বিক্রি করে দিছি, এমন অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তাছাড়া প্রথম দিকে মমিনুল হক বেনুর অনুরোধে মিয়া আমার কাছ থেকে দুই কিস্তিতে বিকাশের মাধ্যমে ১৮ হাজার টাকা নিয়েছেন।’

দীপংকর চৌধুরী বলেন, হাউসবোট নির্মাণে আমরা বড় অঙ্কের অর্থ ইনভেস্ট করেছিলাম। এখন সেটি দখল হওয়ায় আমরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। বিএনপি যদি সত্যিই দলীয়ভাবে সুশৃঙ্খল একটি সংগঠন হয়ে থাকে তাহলে এমন ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে দাবি জানান তিনি।

দীপংকর চৌধুরী ক্ষয়ক্ষতি প্রসঙ্গে বলেন, ‘মমিনুল হক বেনুর দাপটে আমি যেহেতু নৌকায় যেতে পরিনাই সেহেতু ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও আমার অজানা। সে আমার নৌকার ভেতরের লবিতে থাকা রাজহাঁস লগো ও সামনে থাকা সাইনবোর্ড খুলে ফেলেছে এছাড়া নৌকার ক্ষয়ক্ষতি ও ব্র্যান্ডিংয়ে কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নির্ণয় করা বর্তমানে আমার দ্বারা সম্ভব নয়।’

অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা মমিনুল হক বেনু কালবেলাকে জানান, ‘দুই বছর আগে দীপংকর বোটটি নির্মাণের সময় স্থানীয় অনেক মানুষের কাছ থেকে ঋণ নেন। পাওনাদারদের অনুরোধে আমি বিষয়টিতে মধ্যস্থতা করি। দীপংকর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দুই মাসের মধ্যে দেনা পরিশোধ করবেন, তা না করায় আমি ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করে বোটটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিই।’

প্রথমে তিনি থানার ওসির মাধ্যমে বোট বুঝে নেওয়ার কথা বললেও যখন এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত কাগজের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় তখন মমিনুল হক বেনু বলেন, ‘দীপংকর নিজেই আমাকে নৌকাটি বুঝিয়ে দিয়েছেন।’

এদিকে, হাউসবোটের অংশীদারদের মধ্যে একজনের সাথে মমিনুল হক বেনুর মুঠোফোনে আলাপের একটি কল রেকর্ড কালবেলার হাতে রয়েছে। সেই রেকর্ড থেকে শোনা যায়, মমিনুল হক বেনু বলছেন, ‘বোট ফেরত নেবার সময় শেষ। দুই বছরের দেনা পরিশোধ করলেও কাজ হবে না। যদি কেউ বোটটি ফেরত নিতে আসে তাহলে তার হাত-পা ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হবে। আমরা বিএনপির মানুষেরা মানুষের বাড়ি ঘর লুইট্টা পাইট্টা নিতাছিগা আর এইটা বোট এইটারতো কোন কাগজপত্রই নাই’। (অডিও রেকর্ডের ২ মিনিটে আছে)

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত এডভোকেট আব্দুল হক কালবেলাকে বলেন, ‘এটি তাদের ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক বিরোধ। এখানে দলীয়ভাবে কিছু করার নেই। তবে কেউ যদি লিখিত অভিযোগ করে তাহলে আমরা বিষয়টি বিবেচনা করতে পারি।’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী কালবেলাকে বলেন, ‘কোন ধরনের অন্যায় কিংবা অপকর্মের সাথে বিএনপি নেই। বিএনপি সবসময়ই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। টাঙ্গুয়ার হাওরে অবৈধভাবে নৌকা দখলের অভিযোগ পেলে আমরা জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয়ভানে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

মধ্যনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিবুর রহমান কালবেলাকে জানান, ‘বোট সংক্রান্ত কোন ঝুট-ঝামেলার বিষয়ে আমি অবগত নই। চলতি মাসের ৪ জুন আমি এই থানায় জয়েন করেছি।’ তিনি বলেন, ‘যদি কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ জানায় তাহলে আমি প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930