আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইস্কন) কর্তৃক আয়োজিত আজকের সংবাদ সম্মেলনে আপনাদের জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও স্বাগতম।
ইস্কন বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের একটি অংশ হিসেবে, আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহনশীলতার বার্তা প্রচার করে আসছে। আমরা সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সর্বজনীন মূল্যবোধে বিশ্বাসী।
সম্প্রতি আমরা “দৈনিক আমার দেশ” পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের পক্ষ থেকে আমাদের সংগঠনের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও অসত্য হুমকি এবং নিষেধাজ্ঞার আহ্বানের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। তার বক্তব্য শুধু আমাদের সংগঠনকেই আঘাত করেনি, বরং এটি বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহনশীলতা এবং সামাজিক ঐক্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আমাদের বিশ্বাস, এ ধরনের অযাচিত ও ভিত্তিহীন বক্তব্য দেশের শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর।
আপনাদের মাধ্যমে জনাব মাহমুদুর রহমানকে অবহিত করতে চাই, তিনি যদি তার বক্তব্য পরিহার করে দুঃখ প্রকাশ করে জাতির কাছে ক্ষমা চান, তাহলে আমরা তাকে সাধুবাদ জানাবো, অন্যথায় তার বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আমরা লক্ষ্য করছি, সম্প্রতি বিভিন্ন মহল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইস্কন বাংলাদেশকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর গুজব ছড়াচ্ছে। যেমন, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদসমূহে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে যে ছবি বা পতাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন। প্রকৃতপক্ষে, ইস্কনের কোনো নিজস্ব পতাকা নেই। যে পতাকাটি দেখানো হয়েছে, তার সাথে ইস্কনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ইস্কন বাংলাদেশ তার সকল কর্মকাণ্ডে আইন ও শৃঙ্খলা মেনে চলে এবং বাংলাদেশে শান্তি, সহনশীলতা ও ধর্মীয় ঐক্য বজায় রাখার জন্য দৃঢ়নিষ্ঠ।
তাই এসব গুজবের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও আধ্যাত্মিক সংগঠনের বিরুদ্ধে জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
ইস্কন একটি অরাজনৈতিক ধর্মীয় আন্তর্জাতিক সংগঠন। ইস্কন বাংলাদেশ বরাবরই সকলের প্রতি মানবিক সহমর্মিতা ও ধর্মীয় সহনশীলতার বার্তা প্রচার করেছে এবং জাতীয় সম্প্রীতি ও ঐক্যের পক্ষে কাজ করেছে। সুতরাং, এসব মিথ্যা প্রচারণা শুধু বাংলাদেশ ইস্কনের ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্থ করেনি, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ইস্কনের পাশাপাশি বাংলাদেশের সুনাম নষ্ট করছে এবং আমরা এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণার তীব্র নিন্দা জানাই।
সেইসাথে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে, তারা যেন এ ধরনের ভিত্তিহীন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে সহায়তা করে।
সংখ্যালঘুদের ন্যায্য ৮ (আট) দফা দাবির প্রতি আমরা সংহতি প্রকাশ করি। পাশাপাশি, আমি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা-নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং সনাতনীদের প্রতিমা, বাড়ি-ঘর, দোকানপাট ভাংচুর, লুট, অগ্নিসংযোগ, পুলিশ-শিক্ষকদের লাঞ্ছনা করে অব্যাহতি দেয়া এবং ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। সেইসঙ্গে অনতিবিলম্বে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ দেশের সকল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন, হামলা বন্ধ করার জন্য বর্তমান প্রশাসনের নিকট সবিনয়ে অনুরোধ করছি।
সেইসাথে, যারা গুজব ছড়িয়ে অথবা ইস্কনকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ট্যাগ লাগিয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
পরিশেষে, আমরা সকল সাংবাদিক বন্ধুকে আমাদের এই সম্মেলনে উপস্থিত থেকে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি এবং আশা করি, তাদের মাধ্যমে আমাদের বার্তা সঠিকভাবে জনগণের কাছে পৌঁছাবে।
১। স্বগত সম্ভাষণ ও মুখবন্ধমূলক বক্তব্য পাঠ করবেন- শ্রী সত্য রঞ্জন বাড়ৈ, সভাপতি, ইস্কন বাংলাদেশ।
২। লিখিত বক্তব্য পাঠ করবেন- শ্রী চারু চন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী, সাধারণ সম্পাদক, ইস্কন বাংলাদেশ।
৩। শ্রী জ্যোতিশ্বর গৌর দাস ব্রহ্মাচারী, কোষাধ্যক্ষ, ইস্কন বাংলাদেশ।
৪। শ্রী বিমলা প্রসাদ দাস, সদস্য, কার্যনির্বাহী কমিটি, ইস্কন বাংলাদেশ।
৫। শ্রী পার্থ সারথী কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী, সদস্য, কার্যনির্বাহী কমিটি, ইস্কন বাংলাদেশ।
৬। শ্রী চিন্ময় গদাধর দাস ব্রহ্মচারী, সদস্য, কার্যনির্বাহী কমিটি, ইস্কন বাংলাদেশ।
৭। সঞ্চালনায়- শ্রী হৃষিকেশ গৌরাঙ্গ দাস, সদস্য, কার্যনির্বাহী কমিটি, ইস্কন বাংলাদেশ।