• ৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২২শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

জাতিসংঘের নিকট বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিচার দাবি:

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৪, ২০২৪
জাতিসংঘের নিকট বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিচার দাবি:

১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি জাতিসংঘের অধীন আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতে জাতির শ্রেষ্ঠ মেধাবী সন্তান বুদ্ধিজীবীদেরকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। সংগঠনের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আজ (১৪ ডিসেম্বর, শনিবার) এই দাবি জানানো হয়েছে।

লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে হয়েছে যে, “আজ ১৪ ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে বড় বেদনাদায়ক দিন। ১৯৭১ সালের আজকের এইদিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিশ্চিত পরাজিত হচ্ছে বুঝতে পেরে জাতির শ্রেষ্ঠ মেধাবী সন্তান বুদ্ধিজীবীদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল যা পৃথিবীর ইতিহাসে এক জঘন্যতম গণহত্যা। এই দিনটি বাঙালি জাতির জীবনে একটি বেদনার দিন। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ সময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মসমর্পণ শুরু করে এবং পাকিস্তানিরা যখন তাদের অনিবার্য পরাজয় উপলব্ধি করে তখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মেধাবী মানুষদের ধরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। স্বাধীন বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও নতুন রাষ্ট্রকে মেধাশূন্য করার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলাদেশের মেধাবী মানুষদের চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে পৈশাচিকভাবে হত্যাযজ্ঞ চালায়। বাঙালি জাতি যাতে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে সেই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় বাঙালির শ্রেষ্ঠ এইসব মেধাবী সন্তানদের তালিকা করে হত্যা করা হয়। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জাগরণের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত হয় বাঙালি জাতি। মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঙালি জাতি। পরাজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী পরিকল্পিত ভাবে ২৫ শে মার্চে অপারেশন সার্চলাইটের নামে বাঙ্গালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ৩০ লক্ষ নিরপরাধ মানুষকে হত্যা ও ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করে যা বিশ্বের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সূচনা করে। পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যা ও গণধর্ষণের বিরুদ্ধে সমগ্র বিশ্বে প্রতিবাদের আওয়াজ উঠতে শুরু করে। অবশেষে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিকট পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাহিনী পরাজিত হয়। শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ও ২৫ মার্চের ভয়াল গণহত্যার অপরাধে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সহযোগী এদেশের রাজাকার, আলবদর ও আলশামসদের বিচার হয়েছে। কিন্তু বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিচার এখনো হয়নি। বারবার দাবি করা সত্ত্বেও একাত্তরের অপকর্মের জন্য পাকিস্তান আজও পর্যন্ত গণহত্যায় জড়িত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিচার করেনি এবং বাংলাদেশের নিকট রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা চায়নি। পাকিস্তান রাষ্ট্রীয় ভাবে ক্ষমা না চাওয়ার মাধ্যমে সুস্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, পাকিস্তান এখনো রাষ্ট্রীয় ভাবে একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ও ২৫ মার্চের গণহত্যাকে সমর্থন করে। পাকিস্তান এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে মেনে নিতে পারেনি। একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তান এখনও পরিকল্পিত ভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানাবিধ ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করছে। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা লাল-সবুজের পতাকা পেয়েছি। সেই লাল সবুজের পতাকা আবার খামচে ধরেছে একাত্তরের পরাজিত শকুনরা। মহান মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত হওয়ার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য পাকিস্তানি অপশক্তির দোসররা এখন বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তান বানানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এদের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিবে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। জাতিসংঘের নিকট দাবি, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অবশ্যই বিচার করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ খুব শীঘ্রই শহীদ বুদ্ধিজীবীর পরিবারদেরকে সাথে নিয়ে একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের অধীন আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতে মামলা করার উদ্যোগে গ্রহণ করবে। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।”

August 2026
S S M T W T F
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031