রাজীব কান্তি দে/ঢাকা
দেশে অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড সংশোধন, সময়োপযোগী হালনাগাদ এবং একটি সুউচ্চ ভবনের সংজ্ঞা নির্ধারণের জন্য সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ একটি সেমিনারে শিল্প নেতা ও বিশেষজ্ঞরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ইলেকট্রনিক্স সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএসএসএবি) আয়োজিত ‘ফায়ার কোড’ বাস্তবায়ন ও চ্যালেঞ্জ শীর্ষক সেমিনারে তারা এসব সুপারিশ করেন।
সেমিনারে বিকেএমইএ’র নির্বাহী সভাপতি জনাব মোহাম্মদ হাতেম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং মডারেটর ছিলেন ইসাব-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহজাহান।
প্যানেলিস্ট হিসেবে ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান, পিএসসি (অব.) মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স; ইঞ্জি. মোঃ হাসমোতুজ্জামান, সিইও, ইউটিলিটি প্রফেশনাল; জনাব মোঃ হাসানুজ্জামান, আরএসসি, আরএমজি সাসটেইনেবল কাউন্সিল; ইঞ্জি. মোঃ আল-এমরান হোসেন, পরিচালক- ইএসএসএবি; মোঃ মোতাহের হোশান খান, প্রাক্তন সভাপতি, এসাব এবং শেখর চন্দ্র বিশ্বাস, সুপারিনটেনডিং ইঞ্জিনিয়ার, পি ডব্লিউ ডি ।
সেমিনারটি নবম আন্তর্জাতিক ফায়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি এক্সপোর একটি অংশ যা শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪) মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা জনাব সালমান এফ রহমান এমপি উদ্বোধন করেন। ইঞ্জি. মোঃ হাসমোতুজ্জামান বিল্ডিং কোড, ফায়ার অনাপত্তি পত্র এবং ফায়ার অনুমোদন বজায় রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি রাজউকের আওতাধীন বিদ্যমান আইন ও প্রবিধানের অধীনে ফায়ার কোড বাস্তবায়নের জন্য সম্মতি এবং স্বচ্ছতা সংক্রান্ত কিছু চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোকপাত করেন।
জনাব মোঃ হাসানুজ্জামান তার মতামতে বলেন- বিদ্যমান বাস্তবায়ন ব্যবস্থা যেমন প্রাথমিক অগ্নি সনাক্তকরণ এবং দমন ব্যবস্থা সম্পর্কে কিছু পর্যবেক্ষণ থাক্স দরকার। কিন্তু জাতীয় বিল্ডিং কোডের অধীনে এখনও অস্পষ্টতা এবং দুর্লভ বিধান রয়েছে। সুতরাং, সেক্টর ইনসাইডারদের সর্বোত্তম আন্তর্জাতিক অনুশীলন অনুসরণ করতে হবে। যাই হোক, সরকারের উচিত জাতীয় নির্দেশিকাকে অন্তর্ভুক্ত করা।
মোঃ মোতাহের হোসেন খান, ভবন ও কারখানার অগ্নি নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য আমাদের নিজস্ব প্রয়োজনের ভিত্তিতে, কারখানার ভিত্তিতে কর্মক্ষমতা ভিত্তিক ডিজাইনের উপর জোর দেন। তিনি বিভিন্ন অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সরঞ্জাম মিটমাট করার জন্য সুউচ্চ ভবনের সংজ্ঞা ঠিক করার উপর জোর দেন। তিনি বিএনবিসিকে শক্তিশালীকরণ, ফায়ার কোড তৈরি এবং সনাক্তকরণ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সমূহের জন্য স্কেল তৈরির উপর জোর দেন।
শেখর চন্দ্র বিশ্বাস অগ্নি সনাক্তকরণ এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উচ্চ ভবনের সংজ্ঞার উপরও দৃষ্টিপাত করেছেন। বর্তমানে ১০-১৫ তলা বিশিষ্ট অনেক উঁচু ভবন রয়েছে, কিন্তু প্রাথমিক অগ্নি নিরাপত্তার বিষয়ে তাদের অনীহা রয়েছে। নতুন বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে, আমরা নকশা হালনাগাদ করার এবং ফায়ার লিফট, ফায়ার সিঁড়ি, সুরক্ষা দেয়াল এবং অগ্নি নির্গমন নিশ্চিত করার পরামর্শ দিই যাতে যে কোন দুঘটনার সময় সবাই সরে যেতে পারে।
ইঞ্জি. মোঃ আল-এমরান হোসেন জানান- এখনও নন-আরএমজি সেক্টর ফায়ার কোড বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা থেকে অনেক দূরে। তিনি বলেন, মেট্রোরেল, টানেলের মতো মেগা প্রকল্প বিএনবিসি-তে অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই, অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমসাময়িক সমস্যা সমাধানের জন্য বিএনবিসিকে সময়মত আপডেট করা উচিত। তিনি নির্দেশিকা তৈরি ও বাস্তবায়ন এবং ব্যবহারিক ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা কমাতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সহযোগিতার উপর জোর দেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান, পিএসসি (অব.) বলেন, উন্নয়নের সাথে সামঞ্জস্য রেখে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় ইচ্ছা থাকা উচিত। এখানে, সরকারী সংস্থাগুলিকে মসৃণ পরিসেবা প্রদানের জন্য সহায়তা প্রদান করা উচিত এবং দেশে বিশ্বের সেরা সব ব্যবস্থা আনা উচিত। আমাদের জাতীয় কোড সংশোধন করতে হবে। উন্নত বিশ্বে প্রতি বছর এই কোড সংশোধন করা হয়। উঁচু ও নিচু ভবনের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকলে তা কমাতে হবে, নতুবা আইনের প্রয়োগ সম্ভব নয়। কারণ, ফাঁকিবাজি বাড়বে এবং কারখানার মালিকরা এ ধরণের বৈষম্য মূলক বিধানের ফলে রক্ষা পাবে। এছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি করে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
জনাব মোহাম্মদ হাতেম বলেন বিএনবিসি ২০২০ অনেক ত্রুটিপূর্ণ এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে জাতীয় কোড সংশোধন ও হালনাগাদ না করে বিদেশি মান বজায় রাখার কথা নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্বারা বলা উচিত নয়। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এটা বন্ধ করা আবশ্যক, কেননা বহুতল ভবন নিয়ে এখনো বিরোধ চলছে। এটি পুন: সংজ্ঞায়িত করা এবং মান নির্ধারণ করা প্রয়োজন। আমাদের সেরা মান নির্ধারণ করা হলে, অ্যাকর্ড অ্যালায়েন্স এবং অন্যান্য বিদেশী সংস্থা আমাদের ব্যবসায়ীদের চাপ দিতে পারবে না। অযৌক্তিক, অবাস্তব নিয়ম ও বিধান মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলে এই নির্যাতন বন্ধ করতে তিনি সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। সেমিনারে হাজারের বেশি সেক্টর বিশেষজ্ঞ এবং ব্যবসায়িক প্রতিনিধি অংশ নেন।