নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা (Women, Peace and Security—WPS) এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়া শুধু বৈশ্বিক অঙ্গীকার নয়, এটি একটি নৈতিক দায়িত্ব এবং সবার সম্মিলিত দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
রোববার ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘Developing Bangladesh’s New-Generation National Action Plan on WPS’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়া শুধু বৈশ্বিক অঙ্গীকার নয়; এটি একটি নৈতিক দায়িত্ব এবং আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে এ এজেন্ডা এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তিনি বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ১৩২৫ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশ নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডার প্রতি তার অঙ্গীকার অব্যাহত রেখেছে। এর অংশ হিসেবে জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেনের সহযোগিতায় ২০১৯-২০২৫ মেয়াদের প্রথম জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (NAP) পর্যালোচনার কাজ চলমান রয়েছে।
শামা ওবায়েদ ইসলাম সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মেয়েদের শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলোর কথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের শিক্ষা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, নারীর নিরাপত্তা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বাংলাদেশের নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডাকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বাস্তবসম্মত ও পরিমাপযোগ্য দ্বিতীয় পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (NAP) প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওশন আরা বেগম। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের জাতীয় কর্মপরিকল্পনাটি যথাযথভাবে প্রণয়ন, পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। সর্বোপরি, যে নারীদের জন্য এই কর্মপরিকল্পনা তৈরি হবে, তাদের নিজেদের মধ্যেই এর মালিকানা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশে ইউএন উইমেনের প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং বলেন, নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডায় বাংলাদেশের শক্তিশালী ভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশটি আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন, নারীর নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণ, পরিমাপযোগ্য ফলাফল এবং জবাবদিহিতার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
‘Developing Bangladesh’s New-Generation National Action Plan on WPS’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী কর্মশালাটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউএন উইমেন বাংলাদেশ যৌথভাবে আয়োজন করছে। কর্মশালাটি আগামীকাল ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষ হবে।
কর্মশালার মূল লক্ষ্য হলো আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় গ্রুপের সদস্য এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের জন্য এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন প্রজন্মের নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা কাঠামো প্রণয়নে তারা মতামত ও সুপারিশ দিতে পারেন।