ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো আর্তপীড়িত দুঃখী মানুষের সেবা করা এবং দেশবাসীকে মূল মালিক হিসেবে বিবেচনা করে তাদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়ন করা। দল, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকল বাংলাদেশির সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান কাজ।
আজ চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারীতে সরকার হাটে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘প্রত্যাশী’ আয়োজিত সংস্থার সংগঠিত সদস্য ও ক্ষতিগ্রস্ত বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অতীতের ত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, বিগত ১৯ বছর ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও এর অঙ্গসংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হয়েছে। চরম প্রতিকূলতা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও দলের প্রতিটি ইউনিয়ন, থানা, উপজেলা, পৌরসভা ও জেলা পর্যায়ের সদস্যরা সর্বদা দুঃখী, অসহায় ও পীড়িত মানুষের পাশে থেকে সেবা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করেছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, আমাদের রাজনীতিতে কোনো বাছ-বিচার নেই। আমরা সম্মিলিতভাবে দল-মত ও ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের পাশে দাঁড়াতে চাই এবং সেবা করতে চাই।
হাটহাজারীর সাম্প্রতিক দৃশ্যমান অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বাসিন্দাদের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সাড়ে পাঁচ মাসে হাটহাজারীতে সাড়ে চারশ’র বেশি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩৮০টি উন্নয়ন কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বা শেষের পথে রয়েছে। বিগত ১৯ বছরে হাটহাজারীতে এমন অভূতপূর্ব বিশাল কর্মযজ্ঞ কখনোই হয়নি।
প্রতিমন্ত্রী আরো মনে করিয়ে দেন, আজ থেকে ১৯ বছর আগে হাটহাজারীর সড়ক ও অবকাঠামোগত অবস্থা এতটাই বেহাল ছিল যে আমাদের মা-বোনদের চলাচলে চরম কষ্ট পোহাতে হতো। বর্তমান সরকার সেই সব চলাচলের সড়ক প্রশস্তকরণ এবং যানজট নিরসনে পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ উন্নয়ন ধারা অব্যাহত রাখতে তিনি হাটহাজারীর সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
পরে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘প্রত্যাশী’ সংস্থার সংগঠিত সদস্য ও এলাকাভুক্ত বন্যার্ত মানুষের হাতে ত্রাণ সহায়তা তুলে দেন।
‘প্রত্যাশী’ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মনোয়ারা বেগমের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।