রাজীব দে:
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট যেন কেবল রাজস্ব আহরণের কৌশল না হয়ে ব্যবসা-বান্ধব, সহায়ক ও প্রবৃদ্ধিমুখী হয়— এমন প্রত্যাশা জানিয়েছেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান। একইসঙ্গে নতুন করদাতাদের উদ্বুদ্ধ করতে বছরে ১০০ বা ১০০০ টাকার ‘প্রতীকী ন্যূনতম কর’ প্রবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
আজ রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে এমসিসিআই ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) যৌথভাবে আয়োজিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: বেসরকারী খাতের অগ্রাধিকার ও দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।
সেমিনারে এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, “আমরা বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং উচ্চ সুদের হারের মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এ অবস্থায় বাজেট এমন হওয়া উচিত যা বিনিয়োগকারীদের মাঝে ইতিবাচক বার্তা দেবে। আমরা বিশ্বাস করি, একটি ভারসাম্যপূর্ণ করনীতি একদিকে যেমন রাজস্ব বাড়াবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখবে।”
এমসিসিআই সভাপতির উত্থাপিত ৬টি প্রধান প্রস্তাব সমূহ:
এনআইডি ও টিআইএন ডাটাবেজ পূর্ণাঙ্গভাবে একীভূত করা এবং করভীতি দূর করতে ১০০ বা ১০০০ টাকার প্রতীকী ন্যূনতম কর চালু করা।
আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমসের জন্য আলাদা পোর্টালের বদলে একটি সমন্বিত পোর্টাল চালু এবং অনলাইন শুনানির ব্যবস্থা করা।
তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার আরও ২.৫ শতাংশ কমানো এবং নগদ লেনদেনের কঠোর শর্ত শিথিল করা।
৩৯টি ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (পিএসআর) বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা এবং আয়কর আইন ২০২৩-এর অসংগতি দূর করা।
ভ্যাট প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়িক গোপনীয়তা রক্ষায় ‘মূল্যমান’-এর পরিবর্তে শুধু ‘পরিমাণ’ উল্লেখের সুযোগ দেয়া এবং প্রকৃত ‘লেনদেন মূল্য’ অনুযায়ী শুল্কায়ন নিশ্চিত করা।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে পৃথক করহার, ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট এবং কাঁচামালের ওপর শুল্ক কমানোর প্রস্তাব।
সেমিনারে ইআরএফ সভাপতি দৌলত আখতার মালা তথ্যের স্বচ্ছতা বা ‘ডাটা ট্রান্সপারেন্সি’র ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “চলতি অর্থবছরে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হতে পারে। এ অবস্থায় বিদ্যমান করদাতাদের ওপর চাপ না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানো জরুরি। করদাতাদের আস্থা ফেরাতে পাচারকৃত অর্থ রোধ এবং সংগৃহীত করের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস (ইএফডি) চালুর কথা শোনা গেলেও এর দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই, যা প্রশ্নসাপেক্ষ। এছাড়া ডাইরেক্ট ও ইনডাইরেক্ট ট্যাক্সের ভারসাম্যহীনতা ব্যবসার খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সেমিনারে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, আইসিএবি-র সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেনসহ এমসিসিআই ও ইআরএফ-এর সদস্য এবং বেসরকারি খাতের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা একমত হন যে, ২০২৬ সালে এলডিসি উত্তরণের পথে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও বিনিয়োগবান্ধব প্রশাসনিক ও কর কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।