রাজীব দে ঢাকা:
পার্বত্য চট্টগ্রামের বৈচিত্র্যময় কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে সমতলের মানুষের কাছে তুলে ধরতে এবং অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আগামী ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে পাহাড়ের প্রধান সামাজিক উৎসব— বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু ও চাংক্রান। এই উৎসব উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিং ও বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
উৎসবের প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য: পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের প্রধান সামাজিক উৎসব হলো চাকমাদের
বিজু’, মারমাদের সাংগ্রাই’, ত্রিপুরাদের বৈসু’,তঞ্চঙ্গ্যাদের ‘বিষু’ এবং ম্রো ও চাকদের ‘চাংক্রান’। উৎসবগুলো পাহাড়ের মানুষের হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধনকে সুদৃঢ় করা এবং পাহাড়ের এই বর্ণিল সংস্কৃতিকে রাজধানীবাসীর কাছে পরিচিত করাই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এ বিশেষ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
১২ এপ্রিল ২০২৬-এর কর্মসূচিসমূহ:
উৎসবের প্রথম দিন সকালে রাজধানীর বেইলি রোডে বর্ণিল আয়োজনে দিনটি উদযাপন করা হবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে:
বর্ণাঢ্য র্যালি/শোভাযাত্রা: ঢাকা ও পার্বত্য এলাকার পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর সমন্বয়ে একটি উৎসবমুখর শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
সময়: সকাল ০৮:৩০ মিনিট।
যাত্রাপথ:বেইলি রোডস্থ ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স’ থেকে শুরু হয়ে রমনা পার্কের লেক পর্যন্ত।
ফুল ভাসানো উৎসব:পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী সকল সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে রমনা পার্কের লেকের জলে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে ওই দিনের উৎসবের প্রথম পর্ব সম্পন্ন করবেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জনাব দীপেন দেওয়ান, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি। এছাড়া বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের এই অসাম্প্রদায়িক ও ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সংবাদ ও চিত্র ধারণ করে তা দেশবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের সবিনয় অনুরোধ জানানো হচ্ছে।