দেশীয় স্পিনিং শিল্পকে বাঁচাতে এবং রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখতে অনতিবিলম্বে ১০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। আজ বিটিএমএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এই দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশের স্থানীয় মিলগুলো নিট পোশাকের শতভাগ এবং ওভেন পোশাকের ৭০ শতাংশ সুতা সরবরাহ করতে সক্ষম। তা সত্ত্বেও এক শ্রেণীর অসাধু আমদানিকারক বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে সুতা আমদানি করছে, যা দেশীয় শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলো তাদের স্পিনিং খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি (প্রতি কেজিতে ৪০-৫০ সেন্ট) দিচ্ছে। ফলে বন্ড সুবিধার মাধ্যমে আসা ওই সুতার সাথে অসম প্রতিযোগিতায় দেশীয় মিলগুলো টিকতে পারছে না। স্পিনিং খাতে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে এবং এতে সরাসরি ২৫ লক্ষ শ্রমিক নিয়োজিত। বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের ফলে এই বিপুল বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান এখন ঝুঁকির মুখে।
২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পদার্পণ করবে। তখন শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখতে পণ্যে অন্তত ৪০-৫০ শতাংশ ‘ভ্যালু অ্যাডিশন’ প্রয়োজন হবে। আমদানিনির্ভর সুতা দিয়ে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না।
দেশীয় সুতা ব্যবহার করলে বৈদেশিক মুদ্রার রিটেনশন বা সাশ্রয় হয় প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ। বিপরীতে আমদানিকৃত সুতায় রিটেনশন মাত্র ১৫ শতাংশ।
বিটিএমএ সভাপতি জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ট্যারিফ কমিশন সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এইচএস হেডিং (HS Heading) ৫২.০৫, ৫২.০৬ ও ৫২.০৭ এর আওতায় ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তা এখনো বাস্তবায়ন করেনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, পোশাক খাতের রপ্তানি বাধাগ্রস্ত করতে নয়, বরং স্থানীয় শিল্পকে শক্তিশালী করে টেকসই রপ্তানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এই পদক্ষেপ প্রয়োজন। যারা রপ্তানির উদ্দেশ্যে সুতা আমদানি করতে চান, তারা ‘ডিউটি ড্র-ব্যাক’ সুবিধার মাধ্যমে শুল্ক ফেরত নেওয়ার সুযোগ পাবেন, এতে তাদের খরচ বাড়বে না।
বিটিএমএ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দেশীয় শিল্পের স্বার্থে এবং কর্মসংস্থান রক্ষায় অবিলম্বে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছে।