• ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১২ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

রাজনীতি, ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতিভিত্তিক আন্তর্জাতিক ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৫’ শুরু হয়েছে

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত আগস্ট ২৯, ২০২৫
রাজনীতি, ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতিভিত্তিক আন্তর্জাতিক ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৫’ শুরু হয়েছে

রাজধানীর ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলে আজ শুক্রবার,২৯ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে দুই দিন ব্যাপী ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৫’। ঢাকাভিত্তিক থিংক ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স (দায়রা)-এর উদ্যোগে আয়োজিত কনফারেন্সের এ আসরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বাংলাদেশ অ্যাট ক্রস রোডস: রিথিংকিং পলিটিক্স, ইকোনমিক্স, জিওপলিটিকাল স্ট্র্যাটেজি’।

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের গ্রান্ড বলরুমে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশন শুরু হয়। জুলাই শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। উদ্বোধনী অধিবেশন পরিচালনা করেন শেহরিন আমিন ভূঁইয়া, সহকারী অধ্যাপক, লোকপ্রশাসন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এসময় দায়রার পক্ষ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও বাংলাদেশের সার্বিক চিত্র নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন সোয়াস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক ড. মুশতাক খান। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ এবং বিপরীতে অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সেই সকল তরুণদের কর্মোদ্যম তৎপরতা নিয়ে আলোচনা করার সময় তিনি দায়রার উদ্যোগকে স্বাগত জানান। অতঃপর তিনি বাংলাদেশের রাজনীতি ও ভূ-রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘রাজনীতিকে হতে হবে উন্মুক্ত। আমাদের অবশ্যই রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থায়নের উৎস নিয়ে ভাবতে হবে। ‘তিনি মনে করেন, এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাজনীতিবিদরা বুঝে গেছেন পুরাতন রাজনৈতিক বন্দোবস্তে ফিরে যাওয়া অসম্ভব। কারণ মানুষ আর সেটা মেনে নিবে না।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন। তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জুলাই অভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের তরুণরা ২০২৪ সালের আগের রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশকে ফিরে যেতে দেবে না।’ এ সময় তিনি ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজায় গণহত্যা, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কধার্যের বৈশ্বিক পরিস্থিতির উপর আলোকপাত করেন। বাংলাদেশের মতো দেশেগুলোয় শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষাগত বৈষম্যই সবচেয়ে গুরুতর। এখানে অল্প একটা গোষ্ঠী উন্নত শিক্ষা পেয়ে থাকে, যার থেকে উত্তরণ ঘটাতে হবে।

বিশেষ অতিথি হিশেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার সাবেক শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক ড. মাজলি বিন মালিক। তিনি বলেন, বাংলাদেশ গ্লোবাল সাউথের জন্য আশার আলোকবর্তিকা হয়ে উঠতে পারে। তিনি বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি শ্রমিক নির্ভর অর্থনীতির উপর নির্ভর না হয়ে জ্ঞান নির্ভর অর্থনীতির দিকে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। সমুদ্রকেন্দ্রিক অর্থনীতি নিয়েও বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এছাড়া তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা আসিয়ানের সাথে বাংলাদেশের ভবিষ্যত সম্পর্কের ইতিবাচক সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশ আসিয়ানকে পাশে পাবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্য নেপালের সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী দীপক গ্যাওয়ালি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থান কেবল ব-দ্বীপের জন্য না, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য মাইলফলক।’ তবে তিনি মনে করেন, কেবল গণতন্ত্র নয়, সুশাসন প্রতিষ্ঠাও রাষ্ট্রের জন্য জরুরি। অন্যদিকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, একাডেমিয়ায় ব-দ্বীপ নিয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হয়নি। ফলে দায়রার উদ‍্যোগে এ আয়োজনকে তিনি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন।

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠাতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ও ভারতের দুজন প্রখ্যাত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব- ভারতের ইন্টারনেট ভিত্তিক গণমাধ্যম দ্য ওয়্যারের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক সিদ্ধার্থ ভারতরাজন এবং বাংলাদেশের ইংরেজি গণমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম। সিদ্ধার্থ ভারতরাজন বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন যে পদযাত্রার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তার প্রভাব বৈশ্বিক। তবে এখানকার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা অর্থনৈতিক বৈষম্য ‘এদিকে দেশের ইতিহাসের রাজনৈতিক বাঁক তুলে ধরে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘বাংলাদেশের বড় সমস্যা হলো রাজনীতিবিদরা গণতন্ত্রকে ব্যবহার করে সংসদে যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে।’

ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স (দায়রা) একটি ঢাকাভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক, যা বঙ্গীয় বদ্বীপে জ্ঞানের উৎপাদন ও অগ্রগতি নিয়ে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সমাজ-রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির গতিশীলতাকে বোঝাপড়া চর্চায় নিবেদিত।

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠা উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ও ভারতের দুজন প্রখ্যাত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব- ভারতের ইন্টারনেট ভিত্তিক গণমাধ্যম দ্য ওয়্যারের প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক সিদ্ধার্থ ভারতরাজন এবং বাংলাদেশের ইংরেজি গণমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম। সিদ্ধার্থ ভারতরাজন বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন যে পদযাত্রার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তার প্রভাব বৈশ্বিক। তবে এখানকার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা অর্থনৈতিক বৈষম্য ‘এদিকে দেশের ইতিহাসের রাজনৈতিক বাঁক তুলে ধরে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘বাংলাদেশের বড় সমস্যা হলো রাজনীতিবিদরা গণতন্ত্রকে ব্যবহার করে সংসদে যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে।’

September 2026
S S M T W T F
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930