• ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২রা রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি
আগুনবেলা

ডিআরইউ’র সামনে ভোরের কাগজের সংবাদকর্মীদের বিক্ষোভ সমাবেশ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৫

কাগজ প্রতিবেদক : অষ্টম ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পরিশোধ এবং সাংবাদিক কর্মচারীদের চাকুরিচ্যুতির প্রতিবাদে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে পত্রিকাটির সাংবাদিক কর্মচারীরা।
রবিবার (০২ ফেব্রুয়ারী) দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে ভোরের কাগজের সংবাদকর্মীদের অষ্টম ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী সকল দেনা-পাওনা পরিশোধের দাবি জানান সাংবাদিক নেতারা।

গত ২০ জানুয়ারি হঠাৎ একটি নোটিস টানিয়ে ৩৩ বছরের পুরনো এই সংবাদপত্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়। নোটিসে বলা হয়, ভোরের কাগজ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী মালিকের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা চলতি বছরের ২০২৫ সালেল ২০ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

পরদিন ২১ জানুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ভোরের কাগজের প্রধান প্রতিবেদক খোন্দকার কাওছার হোসেন দাবি মেনে নিতে মালিকপক্ষকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন। অন্যথায় মালিকপক্ষের অফিস ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। সে অনুয়ায়ী ২৩ জানুয়ারি কাকরাইলে কর্ণফুলী গ্রুপের প্রধান কার্যালয় এইচআর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা। ভোরের কাগজ কর্ণফুলী গ্রুপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান।
সেদিন ভোরের কাগজ খুলে দেয়া না হলে পত্রিকার মালিক সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীকে তার অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্য ‘গুটিয়ে ফেলতে হবে’ বলেও সতর্ক করেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা।

প্রতিষ্ঠানটি খুলে দেয়া ও বকেয়া পরিশোধের দাবিতে সংবাদকর্মীদের নানা কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় রবিবার (০২ ফেব্রুয়ারী) ডিআরইউর সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আগামীকাল সোমবার (০৩ ফেব্রুয়ারী) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়।
ডিআরইউ’র সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, কোনো রকম নোটিশ ছাড়া হঠাৎ পত্রিকা বন্ধ করা মেনে নেয়া যায় না। এভাবে কথায় কথায় পত্রিকা বন্ধের সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।
ভোরের কাগজের সংবাদকর্মীদের দাবি দ্রুত মেনে নিয়ে সব দেনা-পাওনা পরিশোধ করার জন্য মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে আপনি শান্তিতে থাকতে পারবেন না। যতক্ষণ পর্যন্ত ভোরের কাগজের সংবাদকর্মীদের দাবি আদায় না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ডিআরইউসহ সকল সাংবাদিক সংগঠন আমরা তাদের পাশে আছি এবং থাকবো।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ডিআরইউর সহসভাপতি গাজী আনোয়ার, যুগ্ম সম্পাদক নাদিয়া শারমিন, তথ্য প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক দপ্তর সম্পাদক ডি এম অমর।
সমাবেশে সাংস্কৃতিক সম্পাদক এমদাদ খান, কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা, ডিআরইউর সাবেক কল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবলু ও তানভীর আহমেদসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ভোরের কাগজের প্রধান প্রতিবেদক খোন্দকার কাওছার হোসেন, সম্পাদকীয় বিভাগের ইনচার্জ সালেক নাসির উদ্দিন, সার্কুলেশন বিভাগের ইনচার্জ তসলিম চৌধুরী, বিজ্ঞাপন বিভাগের ডেস্ক নির্বাহী মো. আক্কাছ আলী, কম্পিউটার বিভাগের ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া, উৎপাদন বিভাগের ইনচার্জ শরণ হাওলাদার, সিনিয়র রিপোর্টার এস এম মিজান ও সম্পাদনা সহকারি বিভাগের প্রধান মো. ইবরাহিম প্রমুখ।
এছাড়া কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ভোরের কাগজের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক হুমায়ুন হাশিম,
স্পোর্টস ইনচার্জ শামসুজ্জামান শামস, বিজ্ঞাপন বিভাগের ডেপুটি ম্যানজার নুর মোহাম্মদ স্বপন প্রমুখ। এছাড়া মানববন্ধন ও সমাবেশে ভোরের কাগজের সব বিভাগের সাংবাদিক-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ভোরের কাগজ ৮ম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন করেছে- এমন ঘোষণা দিয়ে সরকার থেকে ৯০০/-টাকা কলাম ইঞ্চি বিজ্ঞাপনসহ সকল সুযোগ-সুবিধা নিয়েছে। অথচ সাংবাদিক-কর্মচারিদের ওয়েজ বোর্ডের বেতন স্কেলের সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে। এমনকি কোনো নিয়োগপত্র দেয়নি। কর্মসূচি থেকে অষ্টম ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী সমস্ত বকেয়া বেতন-ভাতা ও সার্ভিস বেনিফিট দিতে হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।

August 2026
S S M T W T F
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031