প্রচলিত ধারণামতে বসন্তকালের এ পূজাকেই প্রকৃত পূজা বলে অবিহিত করা হয়। বিপরীতে শরৎকালের শারদীয় পূজাকে বলা হয় অকালবোধন। রামচন্দ্র কর্তৃক প্রবর্তিত অকালের পূজা। কিন্তু বিষয়টি শাস্ত্রীয় দৃষ্টিতে যথাযথ নয়। শ্রীচণ্ডীতে জগন্মাতা দুর্গা নিজেই তাঁর বাৎসরিক পূজা শরৎকালে করতে বলেছেন।
শরৎকালে মহাপূজা ক্রিয়তে যা চ বার্ষিকী।
তস্যাং মমৈতম্মাহাত্ম্যং শ্রুত্বা ভক্তিসমন্বিতঃ।।
(শ্রীচণ্ডী :১২.১২)
“শরতকালে আমার যে বাৎসরিক মহাপূজা অনুষ্ঠিত হয়, সে পূজায় আমার মাহাত্ম্যকথারূপ শ্রীচণ্ডী পাঠ করে সবাই ভক্তিসহকারে শ্রবণ করবে।”
দুর্গাপূজার প্রচলন বা মাহাত্ম্য সম্পর্কে মার্কণ্ডেয় পুরাণে বর্ণিত হয়েছে। এ মার্কণ্ডেয় পুরাণের ৮১-৯৩ অধ্যায়কেই শ্রীচণ্ডী বলা হয়।শ্রীচণ্ডীর তেরটি অধ্যায়ের ৫৭৮ টি শ্লোকে দেবীমাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে।পুরাকালে রাজ্যহারা রাজা সুরথ এবং স্ত্রীসন্তানদের দ্বারা প্রতারিত সমাধি নামক এক বৈশ্য একদিন মেধা ঋষির আশ্রমে যান। সেখানে তাঁর নির্দেশে তাঁরা দেবীদুর্গার মৃন্ময়ী প্রতিমায় পূজা করেন এবং দেবীসূক্ত জপ করেন। পূজায় সন্তুষ্টা হয়ে দেবী তাঁদের মনস্কামনা পূর্ণ করেন। কৃত্তিবাসী রামায়ণ এবং কালিকা পুরাণ থেকে জানা যায়, শ্রীরামচন্দ্র রাবণবধের জন্য অকালে শরৎকালে যুদ্ধজয় করতে দেবীকে পূজা করেছিলেন। তখন থেকে এ পূজার নাম হয় অকালবোধন বা শারদীয়া দুর্গাপূজা। চৈত্রমাসের শুক্লপক্ষে দেবীর পূজা হয়, যা বাসন্তী দুর্গাপূজা নামে খ্যাত। শারদীয়া দুর্গাপূজা আশ্বিনের শুক্লপক্ষে হয়। আবার কার্তিক মাসেও দেবীর পূজা হয়, যা কাত্যায়নী পূজা নামে খ্যাত। দেবীর শুক্লপক্ষে নয়দিন ব্যাপী পূজাকেই নবরাত্রি বলে। নবরাত্রি একাধিক। চৈত্র, আশ্বিন, আষাঢ় ও মাঘ মাসেও নবরাত্র অনুষ্ঠিত হয়। সে সময়ে দেবীর পূজা এবং দেবীকে উপলক্ষ করে বিবিধ মহোৎসব করা কর্তব্য। দেবীভাগবতে নবরাত্রির মাহাত্ম্য সবিস্তারে বর্ণিত হয়েছে। দেবী স্বয়ং সুদর্শন নামক পরম ভক্ত এক রাজাকে দর্শন দিয়ে নবরাত্রি পালন করতে নির্দেশ প্রদান করেন।
শরৎকালে মহাপূজা কর্তব্যা মম সর্বদা ।
নবরাত্রবিধানেন ভক্তিভাবষুতেন চ ।।
চৈত্রেঽশ্বিনে তথাষাঢ়ে মাসে কার্য্যো মহোৎসবঃ।
নবরাত্রে মহারাজ পূজা কার্য্যা বিশেষতঃ।।
( দেবীভাগবত:৩. ২৪. ২০-২১ )
“ভগবতী চণ্ডিকা বললেন, হে রাজন ! প্রতি বছর শরৎকালে ভক্তিপূর্ণ হৃদয়ে নবর