গত কয়েকদিনের টানা ভারি বর্ষন বিশেষ করে শনিবার দিবাগত রাত থেকে ভারী বর্ষণে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সহ জেলার বিভিন্ন সড়কের ১৫ টি স্পটে পাহাড় ধস হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি সড়ক বিভাগ।
রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার ঘাগড়ার কলাবাগান এলাকায় রাস্তা ধসে যেকোন মুর্হুতে যান চলাচল বন্ধ হওয়ার আশংকা রয়েছে।
রাতের ভারী বৃষ্টির কারনে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের সাপছড়ি, কলাবাগান সহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধ্বসের ফলে সড়ক যোগাযোগ সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। পরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মীরা তাৎক্ষণিক রাস্তার মাটি সরিয়ে দিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে। ঘাগড়া-বড়ইছড়ি সড়কের উপর মাটি ধসে পড়ে যান চলাচল ব্যহত হচ্ছে। টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে লংগদু,জুড়াছড়ি ও বরকল উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক তলিয়ে অভ্যন্তরিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
রাঙামাটি জেলার কাউখালী-ঘিলাছড়ি সড়ক ধসে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যহত হচ্ছে। ঘাগড়া উচ্চ বিদ্যালয়,ঘাগড়া কলেজ ও ঘাগড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পাহাড়ী ঢলে প্লাবিত হয়েছে। রাঙামাটি জেলা শহর ও কাউখালীতে বেশ কিছু পরিবার আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করেছে। কাউখালীর ঘাগড়ার কলাবাগান এলাকায় বেশ কয়েকটি বৈদ্যুতিক খুটি ঝুকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে। যে কোন মুর্হুতে রাস্তার উপর ভেঙ্গে পড়ার আশংকা রয়েছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ)রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, অতি ভারী বর্ষনের ফলে রাঙামাটি জেলার বিভন্নি সড়কে ১৫ টি স্থানে পাহাড় ধস হয়েছে। এর মধ্যে রাঙামাটি- চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের ৮টি, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কে ২ টি ,ঘাগড়া – বান্দরবান সড়কে ৩টি এবং রাঙামাটির রাজস্থলী-বাঙালহারিয়া সড়কের ২টি স্থানে পাহাড় ধস হয়েছিল। তিনি বলেন,সড়ক বিভাগের লোকজন রাস্তায় অবস্থান করছে যেন সড়ক যোগাযোগ ব্যহত না হয়।
এছাড়াও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে রাঙামাটির কাউখালী,জুড়াছড়ি,বরকল, লংগদুসহ বিভিন্ন উপজেলা স্কুল, বসতবাড়ী ও ফসলী জমি প্লাবিত হয়েছে।
জানা যায়, গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের কারণে জুড়াছড়ি উপজেলার মৈদং ইউনিয়নের জামুরাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শীলছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে।
জুরাছড়ি উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রূপময় চাকমা বিষযটি নিশ্চিত করে বলেন, উক্ত বিদ্যালয়গুলোর রবিবারের শ্রেণী কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া ও টানা বৃষ্টিপাতে জুরাছড়ি, বনযোগীছড়া, মৈদং ও দুমদুম্যা ইউনিয়নে বসত ঘর প্লাবিত এবং ধান্য জমিসহ বিভিন্ন শাক-সবজি পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে। রাস্তা ঘাট প্লাবিত হওয়াই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নের ভারত সীমান্তবর্তী আট নম্বর ওয়ার্ডের নিউ থাংনাং এলাকায় ভারী বৃষ্টি আর বাতাসের প্রভাবে পাঁচটি বসতঘর ভেঙ্গে গেছে । কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ঘরে থাকা জিনিসপত্র, ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ সবাই জুমচাষী। বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিরীন আক্তার জানান, এ ধরনের খবর এখনো পাইনি। খোঁজ নিয়ে জানবো এবং ক্ষতিগ্রস্থদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী আতিকুর রহমান জানান, কাউখালী সরকারী প্রাথমিক দ্যিালয় আশ্রয় কেন্দ্রে ২১ পরিবারের প্রায় শতাধিক লোক আশ্রয় নিয়েছে। এদের জন্য আজ রাত এবং আগামীকাল পর্যন্ত প্রয়োজনীয় খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রাঙামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আসমা বলেন, রাঙামাটি পৌর শহরে বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধ্বসের আশংকায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী জনগনকে দুটি আশ্রয় কেন্দ্রে উঠিয়ে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, রাঙামাটি সদর উপজেলায় এখনও পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্র লোকনাথ মন্দিরে ২০ টি পরিবারের ৮২ জন আশ্রিত রয়েছে। এছাড়া রাঙামাটি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে ১০ পরিবারের ৪৫ জন আশ্রিত রয়েছে। দুটি আশ্রয় কেন্দ্রে মোট ১২৭ জনের জন্য আজ রাত এবং আগামীকাল সকাল পর্যন্ত খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।